Thursday, November 9, 2023

আমার দেখা সুইডেনের শিক্ষা ব্যবস্থা


রহমান মৃধা

আমি স্বাধীন বাংলা হতে দেখেছি, আমি সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্নে মগ্ন হয়েছি। আমি এখন দুর্নীতিমুক্ত এবং সু-শিক্ষাযুক্ত বাংলাদেশ দেখতে চাই। আমার মত করে অনেকেই দেখতে চায় তার মধ্যে রয়েছে রাঙামাটি জেলার লংগদু উপজেলার গুলশাখালী ইউনিয়নের এক দল তরুণ। 

যতটুকু জানতে পেরেছি, গুলশাখালী হাই স্কুল থেকে ১৯৯৫ সালে সম্ভবত ৮/১০ জন এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই ফেল করেছিল। সেটা দেখেই ১৯৯৬ সালে কয়েকজন শিক্ষার্থী, যারা এলাকার বাইরে থেকে পড়াশোনা করে সফল হয়েছিলেন, তারা মিলে গঠন করেন ‘ফরমার স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অব গুলশাখালী’। 

উদ্দেশ্য ছিল, এলাকার ছেলেমেয়ে এবং অভিভাবকদের শিক্ষার ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান করা। প্রতিবছর বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, অভিভাবকদের সংবর্ধনা, শিক্ষকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষার মাধ্যমে সংগঠনটি নিজেদের লক্ষ্যপূরণে চেষ্টা করে আসছে। সংগঠনটি এবার ২৫ বছরপূর্তি উদযাপন করতে যাচ্ছে, সেই লক্ষ্যে ‘দিশারী’ ম্যাগাজিনে আমাকে কিছু লিখতে বলা হয়েছে। 


আমি বাংলাদেশের শিক্ষা-প্রশিক্ষণে সুশিক্ষার বীজ বুনতে চাই। যেমন: শিক্ষার বিকেন্দ্রীকরণ ও বাজার চাহিদার সাথে সংগতিপূর্ণ করে গড়ে তোলা নতুন শিক্ষা ব্যবস্থা সুইডেনের সামগ্রিক চেহারা বদলে দিয়েছে। আশা করি, বাংলাদেশ তার শিক্ষা পরিকাঠামোকে এমন করে তৈরি করতে সক্ষম হবে।

ইউরোপের শিশু শিক্ষার ধরন আমাকে প্রথমে করেছে অবাক পরে মুগ্ধ। তা কী করে সম্ভব? প্রশ্নটি খুবই আশাব্যঞ্জক। তবে উত্তরটি পেতে সময় লেগেছে ষোলটি বছর, তাইতো লেখাটি এর আগে লিখতে পারিনি।

হ্যাঁ, কিছু ঘটনার বর্ণনা দেবো সুইডেনের শিশু শিক্ষার ধরন সম্পর্কে। উদ্দেশ্য একটিই, আর তাহলো, যদি বাংলাদেশের শিশু শিক্ষার সঙ্গে এখানকার শিশু শিক্ষার অমিল থাকে তবে সেই অমিলটা খুঁজে বের করা। যদি দেখা যায়, সেটা আমাদের জন্য ভালো, তাহলে ভালো দিকগুলো আমরা অনুকরণ এবং অনুসরণ করতেই পারি। 

জন্মের প্রথম বছর শিশু তার মায়ের সঙ্গে সময় কাটায়। পরে তাকে সুইডিশ ডাগিসে (কিন্ডারগার্টেন বা ডে-কেয়ার শিক্ষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র) ভর্তি করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে ডাগিসে মায়েরা শিশুর সঙ্গে থাকেন। আস্তে আস্তে কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষাবিদ এবং শিশুদের একটি সমন্বয় ঘটতে থাকে এবং মায়েদের উপস্থিতি কমতে থাকে এবং শেষে সকাল থেকে বিকেল অবধি সময় শিশুর শিক্ষা জীবন শুরু হয় ডাগিসে।

শিশুর বয়স ছয় বছর হওয়া পর্যন্ত তাদের নানা বিষয়ের ওপর নানাভাবে হাতেনাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে গড়ে তোলা হয়। ছয়টি বছর ডাগিসে এরা শেখে বিভিন্ন বিষয়; যেমন শেয়ার ভ্যালু, মনুষ্যত্ববোধ, ভাতৃত্ববোধ, একতা, সামাজিকতা। এক কথায় বলা যেতে পাওে, এখান থেকে জীবন গড়ার শুরুটাকে মজবুত করে তৈরি করতে সাহায্য করা হয়।

ডাগিসের শিশুদের মধ্যে সচেতনতার ছাপ দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি বার বার। দেখেছি, যখন আমার ছেলেমেয়ে ডাগিস থেকে বাড়িতে এসেছে, আমি যদি কোথাও কোনো ভুল করেছি, সঙ্গে সঙ্গে তারা বলেছে, বাবা, তুমি এটা এভাবে না করে এইভাবে করো। আমাদের ডাগিসের শিক্ষকরা এটা এভাবে করতে বলেছে। আমি অবাক হয়েছি, আর তাদের থেকে নতুন নতুন বিষয় শিখেছি। শেখার সঙ্গে সঙ্গে তারাও বুঝেছে, বাড়িতে এবং সমাজে তাদের ভ্যালু কত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর ব্যক্তিত্ব এবং আত্মমর্যাদার বিরাট পরিবর্তন দেখা দেয় ছয় বছর বয়সে, যা না দেখলে বিশ্বাস হওয়ার কথা নয়।

ছয় বছর বয়সে কোনো রকম প্রেশার (চাপ প্রয়োগ) ছাড়া শিশুকে গড়ে তোলা, যেখানে তার শিশুকাল হারিয়ে যায়নি, যেখানে সে খেলাধুলার মধ্যদিয়ে জীবনের পরিকাঠামো তৈরিতে যা যা দরকার তার সব পেয়েছে। যার কারণে জীবনে চলার পথে দ্বন্দ্ব নয় প্রতিযোগিতার মনোভাব নিয়ে সে নানা চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করতে শুরু করে।

এবার স্কুলের জীবন শুরু। জীবনের নতুন অধ্যায়। জানা, দেখা, নিজের হাতে সব কিছু তৈরি করা। নিজের চেষ্টায় কিছু করা। দেশের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখা। নতুন এবং পুরনোর সংমিশ্রণে চিন্তার উন্নয়ন করা। প্রকৃতিকে নিজের মতো করে উপলব্ধি করা। অজানা এবং অচেনাকে চেনা। সব কিছুর সঙ্গে লতার মতো জড়িয়ে পড়া, যা তাদের জীবনকে পরিপূর্ণতা দিতে সাহায্য করে।

ছয় বছর থেকে পনের বছর বয়সে এরা শিক্ষার বেসিকের সঙ্গে সুন্দরভাবে জড়িয়ে যায়। এ সময়ের শিক্ষায় জীবনের দিক নির্দেশনা সম্পর্কে একটি পরিপূর্ণ ছবি দেয় বিধায় তারা বেশ সচেতন হয়ে ওঠে, তারা কী হতে চায় তাদের কর্মজীবনে।

আমি আমার ছেলেমেয়েকে কখনো বাড়িতে বই পড়তে বা লেখাপড়া করতে দেখিনি। মাঝে মধ্যে তাদের জিজ্ঞেস করেছি, কি, কোন হোম ওয়ার্ক নেই? তারা বলেছে,

-বাবা তুমি কত ঘণ্টা কাজ করো?

-আট ঘণ্টা।

-বাড়িতে এসে কেন অফিসের কাজ করো না?

-কেন আমি তো অফিসেই আমার কাজ শেষ করে এসেছি, বাড়িতে কেন সেই কাজ করব?

তারা তখন বলেছে, স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্য স্কুলের কাজ স্কুলে শেষ করা। বাড়ি এসে খেলাধুলা, বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে সময় কাটানো, মজা করা এসব করতেও তো সময় এবং মন দরকার। 

এবার আশা যাক শিক্ষার পরিকাঠামো নিয়ে। সুইডেনে বাধ্যতামূলক শিক্ষার স্তর ৭-৮ বছরে শুরু হয়। বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা ৩টি স্তরে বিভক্ত। ১ম-৩য় শ্রেণি পর্যন্ত নিম্ন স্তর, ৪র্থ-৬ষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত মধ্যম স্তর এবং ৭ম-৯ম শ্রেণি পর্যন্ত উচ্চ স্তর। প্রাথমিক পর্যায়ের শিশুদের শিক্ষা ও উন্নয়নের জন্য স্কুল ও অভিভাবকের দায়িত্ব সমান। শিশুদের উন্নতির ধারা এবং পছন্দ সম্পর্কে স্কুলগুলো নিয়মিতভাবে অভিভাবককে জানায়। প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুদের এমনভাবে গড়ে তোলা হয়, যেন তারা স্কুল ও স্কুলের বাইরের জীবন থেকে ভবিষ্যৎ শিক্ষার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। তারা যেন ভবিষ্যতে লিঙ্গ, সংস্কৃতি কিংবা সামাজিক কারণে পেশা বাছাইয়ের সময় কোনরূপ সমস্যায় না পড়ে সে ব্যাপারে দৃষ্টি রাখা হয়। প্রাথমিক শিক্ষার তিনটি স্তরে শিশুদের সুইডিস ভাষা, গণিত, শারীরিক শিক্ষা, ইংরেজি, কারুকলা, সংগীত, ভিজ্যুয়াল আর্টস, প্রযুক্তিবিদ্যা, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, জীববিদ্যা, ইতিহাস, সামাজিক বিজ্ঞান, ধর্ম, ভূগোল এবং গার্হস্থ্য অর্থনীতি মোট ১৬টি বিষয় বাধ্যতামূলকভাবে পড়তে হয়। ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থীরা পছন্দসই একটি বিদেশি ভাষা পড়তে পারে। ফ্রেঞ্চ, জার্মান আর স্প্যানিশ ভাষার মধ্যে যে কোনো দুটি ভাষা স্কুলগুলো শিক্ষার্থীদের পড়ার জন্য অফার করে থাকে। সময়ানুবর্তিতাকে এখানে খুবই গুরুত্ব দেয়া হয় এবং স্কুলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এই ব্যাপারটি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হয়।

সুইডিস শিক্ষা ব্যবস্থায় গ্রেডিং মূলত তিন প্রকার। ফেইল, পাস এবং পাস উইথ ডিস্টিংশন। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে এ, বি, সি, ডি, ই এবং এফ এই ছয় ধাপে গ্রেডিং করা হয়। তবে বি এবং ডি গ্রেডকে বলা হয় ফিলিং গ্রেড। পরীক্ষা হয় ২০ পয়েন্টের। প্রাথমিক পর্যায়ের শিশুরা অপশনাল বিষয়সহ মোট ১৭টি বিষয়ে সর্বোচ্চ ৩৪০ পয়েন্ট অর্জন করতে পারে। শিশুদের ৩য়, ৬ষ্ঠ এবং ৯ম শ্রেণিতে জাতীয়ভাবে মূল্যায়ন পরীক্ষা নেয়া হয়। সকল শিশুকে সমানভাবে মূল্যায়ন করাই এই পরীক্ষার উদ্দেশ্য। তবে ৬ষ্ঠ শ্রেণির আগ পর্যন্ত শিশুদের গ্রেডিং করা হয় না। ৩য় শ্রেণিতে শুধুমাত্র গণিত ও সুইডিস ভাষার উপর পরীক্ষা নেয়া হয়। অন্যদিকে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে গণিত, সুইডিস ভাষা এবং ইংরেজির উপর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা হয়। পাশাপাশি ৯ম শ্রেণিতে পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও জীববিদ্যার মধ্য থেকে যে কোনো একটি এবং সামাজিক বিজ্ঞানের বিষয় থেকে একটি বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হয়।

সুইডেনে ১০ম থেকে ১২শ শ্রেণি পর্যন্ত উচ্চ মাধ্যমিক স্তরকে বলা হয় জিমনেশিয়াম বা হাইস্কুল। হাইস্কুলে লেখাপড়া করা সুইডেনের শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। তবে শতকরা ৯৮ ভাগ সুইডিশ শিক্ষার্থী প্রাথমিক পর্যায় শেষ করে হাইস্কুলে ভর্তি হয়ে থাকে। এখানে হাইস্কুল স্তরে দুটি শাখা রয়েছে। ১ম শাখাটি কারিগরি শিক্ষার উপর নজর দেয় এবং অন্যটি উচ্চ শিক্ষার উপর। তবে উভয় শাখার শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করার সুযোগ পায়। কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে একই ধারার বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করে। 

আমি কখনও আমার সন্তানদের লেখাপড়া নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করিনি। তবে খেলাধুলার ব্যাপারে বরং বেশি সময় দিয়েছি। তারা জীবনের শুরু থেকে এ পর্যন্ত তেমন কিছু মিস করেছে বলে আমার জানা নেই। এটা আমার ছেলেমেয়েদের সৌভাগ্য বলেই আমি মনে করি। যখন যা প্রয়োজন এবং যখন যা করার সময়, তা করতে পারার মাঝেই কিন্তু রয়েছে আসল আনন্দ।

যদি ফিরে যাই আমার জীবনের শুরুতে, আমাদের ছোটবেলার সময়ের সঙ্গে কিছুটা মিল এখানে আছে। যেমন আমরা স্কুলের পরে খেলাধুলা করেছি, দুষ্টুমি করেছি, নদীতে গিয়ে সাঁতার কেটেছি।

তবে বাংলাদেশে বর্তমান শিশু শিক্ষার ধরন সম্পর্কে যা শুনেছি বা দেখেছি সেটা বেশ আলাদা। যেমন পিঠে উটের কুঁজোর মতো করে বইয়ের বোঝা তুলে দেয়া। স্কুল থেকে ফিরে বদ্ধ ঘরে গৃহশিক্ষকের কাছে দীর্ঘসময় পড়াশোনায় মনোযোগ দেয়া। তারপর বাবা-মার কাছে পড়া, পড়া আর পড়া।

এখানে একটি বিষয় এড়িয়ে গেলে চলবে না, আর তা হলো যারা world class খেলোয়াড় হতে চায়, তাদের activities সাধারণ শিক্ষার্থীদের থেকে ভিন্ন। কারণ, এলিট স্পোর্টসে দরকার প্রচুর মোটিভেশন, ডেডিকেশন, সাফার এবং অফার। যেহেতু কথায় রয়েছে, Winner takes it all so one must work harder than others. এ ক্ষেত্রে এলিট ক্রীড়াবিদদের জীবনের কিছু মজার সময় তারা মিস করে বিশ্বসেরা খেলোয়াড় হওয়ার জন্য। ঠিক তেমনিভাবে যদি কেউ এলিট শিক্ষার জন্য পুরো সময় ইনভেস্ট করতে চায়, যেমন শুধু ডাক্তার বা প্রকৌশলী হওয়ার কারণে জীবনের দুই তৃতীয়াংশ সময় ব্যয় করে, তখন দেখা যায় তারা শৈশব এবং কৈশোরের অনেক কিছু মিস করেছে, পরে হাজার চেষ্টা করলেও সেটা আর পূরণ করা সম্ভব হয় না। এ ধরনের চ্যালেঞ্জের মোকাবেলায় দরকার সুন্দর পরিকাঠামোর। সে ক্ষেত্রে শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণের পুরো সময়ের ওপর সুন্দর ব্যবস্থাপনা থাকতে হবে। কারণ, মানব জীবনের শৈশব, কৈশোর, যৌবন একবারই আসে বারবার নয়, এ বিষয়টি ভুলে গেলে চলবে না। একদিন শিশুর শৈশব, কৈশোর শেষ হয়ে যাবে, জীবনের অনেক কাজ অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। শিক্ষা জীবন শেষে কর্মজীবন শুরু হবে। তখন টাকা পয়সা, গাড়ি, বাড়ি সবই হবে, কিন্তু তাদের জীবনে পরিপূর্ণতা হয়তো আসবে না।

যাইহোক বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষার ক্ষেত্রে এদেশে স্নাতক, স্নাতকোত্তর এবং ডক্টরাল লেভেল রয়েছে। সকল ক্ষেত্রেই লেখাপড়ার জন্য এদেশে বিশ্ববিদ্যালয় বা ইউনিভার্সিটেট এবং বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ এই দুটি শাখা রয়েছে। ডক্টরাল ডিগ্রি অর্জনের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি রিসার্চ ওরিয়েন্টেড বিশ্ববিদ্যালয় কলেজও রয়েছে এদেশে। সুইডেনে ৩ বছরের স্নাতক, ১ বা ২ বছরের স্নাতকোত্তর এবং ২-৪ বছরের ডক্টরাল ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ রয়েছে।

বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা সুইডেনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়তে আসে। শিক্ষা ও গবেষণা খাতে সুইডিস সরকারের বিশেষ দৃষ্টি ও অর্থায়ন উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে সুইডেনকে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ আকর্ষণ হিসেবে গড়ে তুলেছে। বিশেষত ডক্টরাল পর্যায়ের গবেষণার জন্য সুইডিস বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আলাদা সুনাম রয়েছে।

ইউরোপের শিক্ষায় রয়েছে সুশিক্ষা, সুচিন্তা, সুভাবনা। যেখানে জীবনের প্রয়োজনীয় কোনো কিছুই বাদ দেয়া হয় না। সব কিছুই রয়েছে এখানকার শিক্ষা ব্যবস্থায়। আমি আমার অভিজ্ঞতা থেকে এতটুকু বলতে চাই, ইউরোপের শিক্ষা পদ্ধতি সুস্থ এবং সমৃদ্ধ জীবন গড়ার এক চাবিকাঠি। সুইডেনের সাথে বাংলাদেশের আর্থিক কাঠামোর ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও শিক্ষা কাঠামো, কারিকুলাম ও সিলেবাস প্রণয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সুইডিশ মডেল অনুসরণ করতে পারে। বাংলাদেশ ও সুইডিশ সরকারের পারস্পারিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশের শিক্ষা ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব। 

লেখক: সাবেক পরিচালক (প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট), ফাইজার, সুইডেন থেকে।

সূত্র: দিশারী দ্বিতীয় সংখ্যা, জুলাই-২০২২।


No comments:

Post a Comment