মোহাম্মদ আবদুল গফুর
অনেক দিন আগের কথা। তখনও বাংলা চলচ্চিত্রে উত্তম কুমারদের যুগ শুরু হয়নি। চলছে ছবি বিশ্বাস, জহর গাঙ্গুলীদের যুগ। তখনকার একটি ছবিতে ছবি বিশ্বাসের একটা ডায়ালগ এখনো আমার কানে বাজে। ডায়ালগটি ছিল:
I slept and dreamt that life is beauty. I woke up and found that life is duty. অর্থাৎ আমি ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে যখন স্বপ্ন দেখছিলাম, মনে হচ্ছিল, জীবনটা শুধু সুন্দর আর সুন্দর। কিন্তু যখন জেগে উঠলাম, বুঝলাম জীবনের অপর নাম কর্তব্য আর কর্তব্য।
বাস্তবক্ষেত্রেও সেটা আমরা সব সময় দেখতে পাই। সন্তানের প্রতি পিতা-মাতার কর্তব্য বা দায়িত্ব পালন, পিতা-মাতার প্রতি সন্তানদের দায়িত্ব পালন, ভাই ভাইয়ের বা বোনের প্রতি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তাদের একে অপরের প্রতি দায়িত্ব পালন, এ ছাড়াও আত্মীয়-স্বজনদের পরস্পরের প্রতি দায়িত্ব পালন, প্রতিবেশীদের পরস্পরের প্রতি দায়িত্ব পালন, ছাত্রদের প্রতি শিক্ষকদের দায়িত্ব এবং শিক্ষকদের প্রতি ছাত্রদের দায়িত্ব পালনসহ সমাজ ও রাষ্ট্রে একের প্রতি অন্যদের পরস্পরের দায়িত্ব পালনের অলিখিত নিয়ম, যা ছাড়া সমাজ অচল হয়ে পড়তো।
আমরা যারা এখন পৃথিবীতে আছি একশ’ বছর আগে তাদের অধিকাংশই ছিলাম না। আবার এখন আমরা যারা পৃথিবীতে আছি, একশ’ বছর পর তাদের অধিকাংশই থাকব না। এই যে পৃথিবীতে আমাদের থাকা না-থাকা, তা কি আমাদের নিজেদের ইচ্ছায় সম্ভব হয়েছে? অন্যকথায় আমরা যখন জন্মগ্রহণ করি, কেউ কি নিজের ইচ্ছায় জন্মগ্রহণ করি? আবার আমরা যখন মৃত্যুমুখে পতিত হই তখনও কি আমাদের নিজেদের ইচ্ছাতে মৃত্যুবরণ করি? না।
যাঁর ইচ্ছায়, যাঁর কাছ থেকে এসে আমরা এ দুনিয়াতে জন্মগ্রহণ করি, মৃত্যুর মাধ্যমে তাঁর কাছেই আমরা ফিরে যাই। তিনি সর্বশক্তিমান বিশ্বস্রষ্টা আল্লাহ তায়ালা। পৃথিবীতে সব কিছু, মানুষসহ সব জীবের তিনি স্রষ্টা। বিশ্বের এত সব প্রাণির তিনি স্রষ্টা হলেও মানুষ সৃষ্টির মধ্যে তাঁর বিশেষ উদেশ্য ছিল। মানুষ সৃষ্টির আগেই তিনি জিন, ফেরেশতা ইত্যাদি সৃষ্টি করেন। জিনেরা নিজেদের মধ্যে মারামারি-হানাহানিতে লিপ্ত থাকতো। পক্ষান্তরে ফেরেশতাদের আল্লাহর অবাধ্যতা করার শক্তিই স্রষ্টা দেননি।
এই পটভূমিতেই ফেরেশতাদের কাছে স্রষ্টা যখন মানুষ সৃষ্টির অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন তখন তারা ভয় পেয়েছিল, মানুষও বুঝি আবার জিনদের মতো দুনিয়ায় অশান্তি সৃষ্টি করে কিনা ভেবে। তারপরও মানুষকে সৃষ্টি করেন বিশ্বস্রষ্টা, বিশ্বপালকের প্রতিনিধি হিসেবে। তার চেয়েও বড় কথা, পার্থিব জীবনে মানুষকে স্রষ্টা তাঁকে মান্য ও অমান্য উভয় পথে যাবারই ক্ষমতা দিয়ে রেখেছেন। উভয় পথে যাবার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও যারা তাঁকে মান্য করে পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে তারা পরকালে পুরস্কার লাভ করে চিরশান্তির সৌভাগ্য অর্জন করবে। আর যারা এর বিপরীতে তাঁর বিধান অমান্য করবে তারা পরকালে নরকের অন্তহীন শাস্তি ভোগ করবে। সুতরাং মানুষের কর্তব্য হচ্ছে স্রষ্টার বিধানের আনুগত্য করে পরকালের অনন্ত শান্তির পথে অগ্রসর হতে চেষ্টা করা। কিন্তু এ কথাটা যত সহজ মনে হয়, তত সহজ না। কেন? এবার সে কথাটিই বলছি।
মানব জাতির আদিপিতা আদমকে আল্লাহ সৃষ্টি করে তার মধ্যে রুহ (আত্মা) ফুঁকে দিয়ে উপস্থিত সকলকে নির্দেশ দিলেন তাকে সেজদার মাধ্যমে সম্মান প্রদর্শন করতে। ফেরেশতারা সে মতে আদমকে সেজদা করলেও অস্বীকার করলো জিন জাতিভুক্ত ইবলিশ। সে যুক্তি দিল, আদম মানুষ; তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে মাটি থেকে। আর তাকে (ইবলিশকে) সৃষ্টি করা হয়েছে আগুন থেকে। জন্মগতভাবেই সে মানুষ (আদম) থেকে শ্রেষ্ঠ। সুতরাং সে আদমকে সেজদা করার মাধ্যমে সম্মান দেখাতে পারে না। এভাবে আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করাতে সে অভিশপ্ত হয়ে গেল।
এরপর ইবলিশের জীবনের প্রধান লক্ষ্যই হয়ে দাঁড়াল যে আদমের কারণে তার এই দুর্ভাগ্য সে আদম ও তার বংশধরদের বিভ্রান্ত করে আল্লাহর বিধান অমান্য করতে প্রলুব্ধ করা। এর মধ্যে এক পর্যায়ে আদম একাকী বোধ করায় স্রষ্টা তার সঙ্গিনী হিসেবে সৃষ্টি করেন বিবি হাওয়াকে। ইবলিশ এক পর্যায়ে তার পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক আদম ও হাওয়াকে আল্লাহর নির্দেশ লংঘনে প্রলুব্ধ করতে সক্ষম হয়।
এসব ছিল আদম-হাওয়ার বেহেশতে থাকাকালীন প্রথম জীবনের ঘটনা। এরপর আল্লাহর নির্দেশে হাওয়াসহ আদমকে পৃথিবীতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। সেই সাথে ইবলিশকেও পাঠিয়ে দেয়া হয় পৃথিবীতে। উদ্দেশ্য একটাই। আদম ও তার বংশধররা ইবলিশের প্ররোচণায় প্রলুব্ধ না হয়ে আল্লাহর বিধান মান্য করতে কতটা সক্ষম হয় তা পরীক্ষা করা।
এভাবেই শুরু হয় মানবজাতির আদিপিতা আদমের পার্থিব জীবন। এ পার্থিব জীবনের প্রধান বৈশিষ্ট্যই হলো আল্লাহর বিধান মেনে চলতে আদম ও তার বংশধরদের চেষ্টা এবং ইবলিশের প্ররোচণায় সে বিধান অমান্য করার মধ্যকার দ্বন্দ্ব-সংঘাত। মানুষের মধ্যে সু-প্রবৃত্তি ও কু-প্রবৃত্তির মধ্যকার এই দ্বন্দ্বে যখন সু-প্রবৃত্তি জয়ী হয় তখন সে আল্লাহর বিধান মেনে চলে, পূণ্য সঞ্চয় করে। আর যখন কু-প্রবৃত্তি জয়ী হয় তখন সে আল্লাহর বিধান অমান্য করে, পাপকর্মে লিপ্ত হয়।
কিন্তু মানুষ কী করে জানবে কোনটা আল্লাহর বিধান, আর কোনটা আল্লাহ কর্তৃক নিষিদ্ধ কাজ? এটা মানব জাতিকে জানিয়ে দিতেই আল্লাহ যুগে যুগে নবী-রাসুল পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। পৃথিবীতে একটি মানুষও যাতে এই ব্যবস্থার সুফল থেকে বঞ্চিত না থাকে, সে লক্ষ্যে আল্লাহ প্রথম মানব আদমকেই প্রথম নবী হিসেবে মনোনীত করেন। এরপর যুগে যুগে অসংখ্য নবী-রাসুল এসেছেন আল্লাহর একত্ব, তথা তৌহিদ, রিছালাত ও আখেরাতে বিশ্বাসের কথা প্রচার করতে।
এখানে প্রশ্ন উঠতে পারে সকল নবী-রাসুলই যদি আল্লাহর এই শাশ্বত বিধান প্রচার করবেন, তা হলে বিভিন্ন যুগে বিভিন্ন নবী-রাসুল আসার প্রয়োজন ছিল কি? ছিল। অবশ্যই ছিল। এক নবী তার জামানার মানুষদের সুপথ দেখালেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে সে নবীর ওফাতের পর তাঁর শেখানো আদর্শ ভুলে গিয়ে শয়তানের প্ররোচণায় প্রলুব্ধ হয়ে মানুষ আল্লাহর বিধান অমান্যের পথে অগ্রসর হয়েছে। তাছাড়া যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে এমন সব নতুন নতুন সমস্যার উদ্ভব হয়েছে যা আগে ছিল না।
শেষোক্ত এই বিষয়টা বুঝতে আমরা আরেকটা দৃষ্টান্তের সাহায্য গ্রহণ করতে পারি। কোনো ব্যক্তি-মানুষ যখন ছোট্ট শিশু থাকে, তখন তার গায়ে যে জামা লাগে তা কি বয়স বৃদ্ধির পরও তার উপযোগী থাকে? থাকে না। তার পরিবর্তিত দেহের চাহিদা মেটাতে বড় জামার প্রয়োজন হয়। এ ক্ষেত্রে আবার প্রশ্ন ওঠে: তবে কি মানব জাতির জন্য অনন্তকাল ধরেই এই পরিবর্তনের পালা চলতে থাকবে? খতমে নবুওতের বিষয়টিও তো তা হলে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। তার জবাবও ব্যক্তি-মানুষের জীবন থেকে নেয়া যায়। মানুষ শৈশব থেকে বাড়তে বাড়তে পূর্ণ বয়স্ক পর্যায়ে পৌঁছার পর তার কিন্তু আর জামার আকার বাড়ানোর প্রয়োজন পড়ে না। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সে ঐগুলো ব্যবহার করতে পারে। শেষ নবী হজরত মোহাম্মদ (স.) এর যুগে এসে মানবসভ্যতা সেই পর্যায়েই পৌঁছায়; যার কথা পবিত্র কোরআন শরীফে ঘোষিত হয়েছে, ‘ইয়াওমা আকমালতু লাকুম... (তোমাদের জন্য আজকে তোমাদের ধর্ম সম্পূর্ণ করলাম)’ এই আয়াতের মাধ্যমে। সুতরাং শেষ নবীর পর আর কোনো নবীর আগমনের প্রয়োজন হবে না। শেষ নবীর উপর অবতীর্ণ কোরআনুল কারীমের যুগোপযোগী ব্যাখ্যার মাধ্যমে পরবর্তী যুগের তাবৎ সমস্যার সমাধান পাওয়া সম্ভব।
বাস্তবেও দেখা যাচ্ছে বর্তমান যুগে যখন পশ্চিমাবিশ্ব জ্ঞান-বিজ্ঞানের নিত্য-নতুন আবিষ্কারের মাধ্যমে চমক সৃষ্টি করে চলেছে, তখন খোদ উন্নত বিশ্বের মানুষদের মধ্যেও ইসলাম গ্রহণের পাল্লা অকল্পনীয়ভাবে বেড়ে চলেছে। যে কারণে জর্জ বার্নাড শ’য়ের মতো ব্যক্তিও অভিমত প্রকাশ করেছেন যে, একমাত্র ইসলামের মাধ্যমেই অশান্ত বিশ্বে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে। কিন্তু মানব সভ্যতা এখনও যে সে পর্যায়ে পৌঁছেনি, এ নির্মম বাস্তবতাও আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। এর অন্যতম কারণ, অন্যরা তো দূরের কথা, খোদ মুসলিম নামধারীদের অনেকেই ইসলামের মহান আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে ভুল পথে চলতে শুরু করেছে।
এবার ইসলামের মহান আদর্শ সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোকপাত করেই এই আলোচনার ইতি টানতে চাই। ইসলামের মহান আদর্শের সব চাইতে জরুরি বিষয় তিনটি, যা ইতোপূর্বেই বর্ণনা করা হয়েছে। এ তিনটি বিষয় হচ্ছে তৌহিদ, রিছালাত ও আখেরাতে বিশ্বাস। এর মধ্যে তৌহিদ সব চাইতে অধিক গুরুত্বপূর্ণ। তৌহিদ অর্থ স্রষ্টার একত্বে বিশ্বাস। স্রষ্টার একত্বে বিশ্বাস করলে মানবজাতির মধ্যে বর্ণ, বংশ, জাতি, ভাষা ও ভূখণ্ডগত বৈষম্যকে কেন্দ্র করে মানুষে মানুষে হানাহানি, দ্বন্দ্ব-সংঘাতের পরিবর্তে ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলা সহজ হয়। অথচ আজকের বিশ্বে এই বৈষম্য চিন্তাই মানুষে মানুষে দ্বন্দ্ব-সংঘাত সৃষ্টির মাধ্যমে মানবজাতির মধ্যে শান্তির পরিবর্তে অশান্তি ও হানাহানি জন্ম দিয়ে চলেছে।
বিশ্বজগতের স্রষ্টার একত্বে বিশ্বাস এক লহমার মধ্যে মানুষে মানুষে সকল দ্বন্দ্ব ও সংঘাত দূর করতে সক্ষম। স্রষ্টার একত্বের পাশাপাশি আমরা যদি রিছালাত ও আখেরাতে বিশ্বাসী হই, এক স্রষ্টার সৃষ্টি হিসেবে একই স্রষ্টার বিধানের আলোকে মানুষে-মানুষে, বর্ণে-বর্ণে, ভাষায়-ভাষায়, জাতিতে-জাতিতে বৈষম্য চিন্তা থেকে মুক্ত হই তাহলে সমগ্র বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা সহজ হয়ে উঠবে। আখেরাতে বিশ্বাসের কারণে আমরা কেউই নিজেদেরকে সর্বপ্রকার জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে উঠে মানুষদের প্রতি বেপরোয়া আচরণে লিপ্ত হতে পারবো না। আখেরাতে বিশ্বাস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেবে যে, দুনিয়ায় যে যতই শক্তিশালী হয়ে অন্যের প্রতি অন্যায় আচরণে প্রবৃত্ত হোক, পরকালে সে সর্বশক্তিমান আল্লাহতায়ালার কাছে তার অন্যায় আচরণের জন্য শাস্তিভোগ এড়াতে পারবে না। আখেরাত তথা পরকালে পার্থিব জীবনের পরিণতি সম্পর্কে প্রতিটি মানুষ জানে বলে আখেরাতে বিশ্বাসী কোনো মানুষই দুনিয়ায় বেপরোয়া আচরণের সাহস পাবে না।
সুতরাং ইসলামের যে তিনটি মূল মর্মবাণী রয়েছে, সেই তৌহিদ, রিছালাত ও আখেরাতে যাদের গভীর বিশ্বাস রয়েছে, একমাত্র তাদের পক্ষেই জুলুমবাজির বিপরীতে মানুষে-মানুষে ভ্রাতৃত্বের ভিত্তিতে শান্তির জীবন গড়ে তোলা সম্ভব হতে পারে। এর অন্যথা হলে তা হবে মানুষের জন্য চরম অশান্তির অভিশাপ।
উপর্যুক্ত আলোচনার ভিত্তিতে আমরা এভাবে উপসংহার টানতে পারি যে, মানুষকে তার পার্থিব জীবনে স্রষ্টা তাঁর বিধান মান্য ও অমান্য দুই পথে চলার ক্ষমতা দিয়ে রেখেছেন। সে যদি এই দুই পথে চলার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও শুধু স্রষ্টার বিধান মান্য করে চলে, তা হলে তার দ্বারা বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায় এবং এর ফলে তার নিজেরও পরকালে স্রষ্টার পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা দৃঢ়তর হয়। পক্ষান্তরে মানুষ যদি তার পার্থিব জীবনে স্রষ্টার নির্দেশ অমান্য করে চলে, তবে তার দ্বারা পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টির আশঙ্কাই বৃদ্ধি পাবে এবং পরকালেও তার জন্য অপেক্ষা করবে স্রষ্টার পক্ষ থেকে শাস্তিভোগের দুর্ভাগ্য। এর অন্য অর্থই হচ্ছে মানুষ তার জীবনে বিশ্ব স্রষ্টার বিধান মতে চললে তার নিজের জন্যও পরকালে স্রষ্টার পুরস্কার লাভের আশা করতে পারবে। এর অন্যথা করলে তার দ্বারা মানব সমাজে যেমন অশান্তি সৃষ্টির আশঙ্কা বৃদ্ধি পাবে, তেমনি তার নিজের জন্যও সে স্রষ্টার পক্ষ থেকে পরকালে শাস্তিলাভের দুর্ভাগ্য ডেকে আনবে। এ কারণেই মানুষের জীবনের চূড়ান্ত সার্থকতা নির্ভর করে, এ জীবন সে কীভাবে চালাবে, তার ওপর।
মোহাম্মদ আবদুল গফুর: সুদীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী প্রবীণ ভাষাসৈনিক, সাংবাদিক, প্রাবন্ধিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক মোহাম্মদ আব্দুল গফুরের জন্ম ১৯২৯ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি। ১৯৪৭ সালে পাক্ষিক জিন্দেগী পত্রিকায় তিনি সাংবাদিকতা শুরু করেন, ১৯৪৮ সালে তমুদ্দুন মজলিসের উদ্যোগে প্রকাশিত সাপ্তাহিক সৈনিক পত্রিকায় যোগদেন সহকারী সম্পাদক হিসেবে। ১৯৫২ সালে গঠিত সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের তিনি ছিলেন সক্রিয় সদস্য। ভাষাআন্দোলনের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৫ সালে পেয়েছেন একুশে পদক।


No comments:
Post a Comment