Wednesday, November 1, 2017

শিশুরা যেভাবে শিখে

মো. আবুল হাসেম
শিশু বেড়ে ওঠার সাথে সাথে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করেন অভিভাবকরা। শিশুকে শিক্ষকের কাছে পাঠান লেখাপড়া শিখার জন্য। তখন শিশুকে সুশিক্ষা দিয়ে মানুষ গড়ার দায়িত্ব চলে আসে শিক্ষকের কাঁধে। শিক্ষকরা কৌশলগত দিকগুলো অবলম্বন করে শিশুকে অতিআদরে লেখাপড়া শেখান। শিশুকে স্বপ্ন দেখিয়ে তার লক্ষ্য উদ্দেশ্যের দিকে ধাবিত করেন। সেকারণেই বলা হয়, শিক্ষকতা মহান পেশা। মানুষের সন্তানকে প্রকৃত মানুষ করার ক্ষমতা পৃথিবীর আর কারোর নেই। শুধু শিক্ষকেরই আছে। শিশুকে শেখানোর জন্য শিক্ষকের কী কী গুণ থাকা প্রয়োজন শ্রদ্ধেয় শিক্ষকেরাই তা ভালো জানেন। অভিভাবককে যে বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে- শিশুরা অনুকরণপ্রিয়। বেশিরভাগ সময় আপনাদের সাথে থাকে বিদায় আপনাদেরকে অনুকরণ করেই শিশু বড় হয়। আপনাদের সব রকম আচরণ তাদের মনের উপর প্রভাব ফেলে।
শিশুকে সব সময় বকুনি দিলে, মারধর করলে বা অন্যরে সাথে খারাপ আচরণ করলে, নেতিবাচক কথা বললে, অন্যের সমালোচনা করলে, সেও ধীরে ধীরে বড় হয়ে অন্যের সাথে খারাপ আচরণ করবে। এতে বিস্ময়ের কিছু নেই।

বেশিভাগ ক্ষেত্রে শিশুরা আত্মকেন্দ্রিক হয়। সে তার নিজেরটা ভালো বুঝে। নিজের প্রয়োজন, অভিরুচি যতটা বুঝে, অন্যের প্রয়োজন বিবেচনা করা ততটা বুঝে না। এটা বড়দের গুণ, যা তারা দীর্ঘ সময় পর অর্জন করে। শিশু সামাজিক সম্পর্কে, সামাজিক মিথষ্ক্রিয়ার মাধ্যমে বড় হতে হতে এসব গুণ অর্জন করার চেষ্টা করে। সে জন্য প্রয়োজন বড়দের ধৈর্য ধরা। আপনাদের মত করে শিশুরা সব কথা বলবে, সব কাজ করবে, এটা ভাবা ভুল। শিশুদের কোন বিশেষ বিষয় শেখানোর জন্য বিশেষ সময় রয়েছে, এ অনুভূতিশীল পর্যায়টি সঠিকভাবে চিনে নিয়ে শিশুকে যথাযথ কাজ শিখিয়ে দক্ষতা বাড়ানোর জন্য বড়দের পরিকল্পনা থাকা দরকার। এমন কাজ শিশুকে শেখাতে হবে যা সে সহজেই করতে পারে এবং কাজে সফল হয়। সফলতার মধ্যমে কৌতূহল, আগ্রহ, শ্রমের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হয়। কোন কাজে সফল হলে শিশু নিজেকে মূল্যবান মনে করে। তার মধ্যে আত্মবিশ্বাস জন্ম নেয়। 

শিশুদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য অভিভাবকদের শিশুদের প্রতি প্রশংসা উৎসাহ বাড়াতে হবে। শিশুর বিশেষ গুণ-প্রবণতা সম্পর্কে প্রথম সচেতন হবেন- মা, বাবা। তাকে বিশেষ গুণটি চর্চার সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার দায়িত্বও মা-বাবার। শিশুর চারপাশের পরিবেশে নানান রঙের, নানান ধরনের, বিচিত্র অভিজ্ঞতা অর্জনের সরঞ্জাম থাকা আবশ্যক। বয়স বৃদ্ধির সাথে সঙ্গতি রেখে পরিবেশ প্রদান করা সম্ভব হলে শিশু বড়দের নির্দেশ ছাড়াই স্বাধীনভাবে শিখতে পারে। আপনারা শিশুর সাথে নমনীয় আচরণ করুন। কঠোর নিয়মনীতি শিশুর জ্ঞান বৃদ্ধির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। মনে রাখতে হবে, শিশু বড় হতে হতে সব নিয়মকানুন নতুন করে প্রণয়ন করা প্রয়োজন। তবে সে নিয়ম হবে নমনীয়। যা শিশু সহজে গ্রহণ করে নিতে পারে। পৃথিবীর সর্ব ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা বিরাজমান। শিশুকে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে মেধা অন্বেষণ ও জ্ঞানচর্চার বিকল্প নেই। শিশুর শিক্ষা ও আচরণের পরিবর্তনে বন্ধুর ভূমিকাও কম নয়। সেক্ষেত্রে বন্ধু নির্বাচনে শিশুকে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। শিশুরা আবেগপ্রবণ হয়। তাই শিশুকে শিক্ষক ও অভিভাবকের কথামত চলতে হবে। তা নাহলে শিশুর জীবন বিপর্যস্ত হবে। শিক্ষক ও অভিভাবকের পরামর্শে শিশু সুশিক্ষা গ্রহণ করলে- শিশুর জীবন হবে সুন্দর, স্বার্থক ও ফলপ্রসূ। শিশুর পৃথিবী হবে আলোকিত। আমরা সবাই আলোকিত ও সুন্দর পৃথিবী চাই। সুন্দর এই পৃথিবী গড়ার জন্য শিক্ষক, অভিভাবাক ও শিশুর সমন্বয় প্রচেষ্টা অত্যাবশ্যক।

আবুল হাসেম: সহকারী শিক্ষক, রাবেতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়।

No comments:

Post a Comment