Thursday, November 2, 2017

আমাদের সড়ক যোগাযোগ

ওমর ফারুক মুছা
রাঙ্গামাটি জেলায় লংগদু হচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং জনবহুল উপজেলা। অবস্থান এবং পরিবেশগত কারণেই এর রয়েছে উজ্জ্বল সম্ভাবনা। তবে সে সম্ভাবনা বাস্তব হতে পারছে না শুধু দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে। পাহাড় বেষ্টিত এ উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের ভেতর দিয়ে জালের মতো ছড়িয়ে আছে কাপ্তাই হ্রদের শাখা-প্রশাখা। তাই আভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক কষ্টকর এবং সময়সাপেক্ষ। উপযুক্ত সড়ক যোগাযোগ না থাকায় শিক্ষা, ব্যবসায়, উন্নয়ন ও উৎপাদন, যাতায়াত, চিকিৎসাসহ নানা কাজ ও উন্নয়নে এখনো কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি লংগদুবাসী। আভ্যন্তরীণ সড়ক যোগযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠলে জনগণ দ্রুত উপজেলা সদর, হাসপাতাল বা হাটবাজারে পৌঁছাতে পারবে। পাল্টে যাবে তাদের জীবনযাত্রার মান।


উপজেলায় ইউনিয়ন আছে সাতটি। ১নং আটারকছড়া ইউনিয়ন, ২নং কালাপাকুজ্যা ইউনিয়ন, ৩নং গুলশাখালী ইউনিয়ন, ৪নং বগাচতর ইউনিয়ন, ৫নং ভাসাইন্যাদম ইউনিয়ন, ৬নং মাইনীমুখ ইউনিয়ন ও ৭নং লংগদু সদর ইউনিয়ন। ইউনিয়নগুলোর মধ্যে আটারকছড়ার সাথে মাইনীমুখ ও লংগদু সদর ইউনিয়নের একাংশ সড়ক যোগাযোগ গড়ে উঠেছে। অবশিষ্ট চারটি ইউনিয়ন- কালাপাকুজ্যা, গুলশাখালী, বগাচতর, ভাসাইন্যাদম কাচালং নদী তথা কাপ্তাই হ্রদের কারণে উপজেলা সদর থেকে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। ফলে এই চার ইউনিয়েনের বাসিন্দাদের নদী পথই হচ্ছে এক মাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থা। তবে গুলশাখালী, বগাচতর এবং ভাসাইন্যাদম এই তিনটি ইউনিয়নে আন্তঃ ইউনিয়ন সড়ক যোগাযোগ গড়ে উঠার সুযোগ রয়েছে। এই আন্তঃ সড়ক পথ গড়ে উঠলে তিন ইউনিয়নবাসীর ভাগ্যের চাকা সহজেই ঘুরবে।

অবশ্য ইতোমধ্যে গুলশাখালী, বগাচতর এবং ভাসাইন্যাদম এ তিন ইউনিয়নের মধ্যে আন্তঃ সড়ক যোগাযোগ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ চলছে। ভাসাইন্যাদম থেকে শুরু হয়ে চাইল্যাতলী ও বগাচতর হয়ে গুলশাখালী পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। এ সড়কটি বড় মাহিল্যা হয়ে বাঘাইছড়ি পর্যন্ত দ্রুত যুক্ত হলে গতিশীল হবে এ এলাকার অর্থনীতি। আর কাচালং নদীর পূর্ব পাড়ের মানুষদের উপজেলা সদর পর্যন্ত সহজ চলাফেরার জন্য প্রয়োজন অন্তত তিনটি বড় ব্রিজ। পাশাপাশি বিদ্যমান সড়কগুলোর সংস্কার করলে ভাগ্য বদলে যাবে স্থানীয় বাসিন্দাদের।

উপজেলার বাণিজ্যিক কেন্দ্র মাইনীমুখ বাজার থেকে বাইট্টাপাড়া পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার ইটসলিং সড়কটি পিচ ঢালাই করা প্রয়োজন। দীর্ঘ দুই যুগ আগে ইটসলিং করা হয়েছিল উপজেলার এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি। বিভিন্ন যানবাহন চলাচল ও বৃষ্টির পানিতে সড়কের দু’পাশে মাটি সরে যাওয়ার কারণে বিভিন্ন পয়েন্টে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। অসংখ্য খানা-খন্দে ভরা সড়কটি এখন যানবাহন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। তারপরেও এ সড়ক দিয়ে প্রতিনিয়ত শত শত মোটর সাইকেল, সেনাবাহিনীর গাড়ি, ট্রাক, জিপসহ বিভিন্ন যানবাহনে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে মানুষজন। সড়কটি কার্পেটিং করে যান চলাচলের উপযোগী করা হলে জীবনের নিরাপত্তা ও গতি আসবে স্থানীয় অধিবাসীদের।

ওমর ফারুক মুছা: সাংবাদিক।


দিশারীর সকল লেখা একত্রে পড়তে ক্লিক করুন এখানে

No comments:

Post a Comment