Tuesday, October 31, 2017

উপজেলার প্রথম চেয়ারম্যান আব্দুর রশীদ সরকার

আব্দুর রহিম
রাঙ্গামাটি জেলার লংগদু উপজেলার প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন আব্দুর রশীদ সরকার। উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার আগে তিনি নিজ ইউনিয়ন আটারকছড়ার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েই তিনি সাবলীল ও দৃঢ়তার সাথে নেতৃত্ব দিয়ে জনগণের প্রিয় নেতা হয়ে উঠেন। আশির দশকের সেই প্রায় অন্ধকার সময়ে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর কারণেই জনপ্রিয়তার তুঙ্গে উঠেছিলেন রশীদ সরকার। এই জনপ্রিয়তাই তাঁকে পৌঁছে দিয়েছিল উপজেলা পরিষদে। এরশাদ সরকার প্রবর্তিত উপজেলা পরিষদের প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান হওয়ার পর আব্দুর রশীদ সরকারের নেতৃত্ব গুণ ছড়িয়ে পড়েছিল উপজেলার বাইরেও। বঞ্চিত ও অবহেলিত মানুষের জন্য তাঁর ভূমিকা ছিল আপসহীন। সেই তুমুল জনপ্রিয়তা ও নেতৃত্বের দৃঢ়তাই তাঁর জন্য একসময় কাল হয়ে দেখা দিয়েছিল।

তাঁর সমকালীন নেতৃত্বস্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, শুধু নেতা হিসেবেই নয়, বরং মানুষ হিসেবেও রশীদ সরকার ছিলেন খুবই অমায়িক। ছোট কিংবা বড় কেউ তাঁকে আগে সালাম দেয়ার সুযোগ পেত না, তিনিই সবাইকে সালাম দিতেন আগে। হাসি মুখে কথা বলতেন সবার সাথে। দ্রুত মিশতে পারতেন সকলের সাথে। তাঁর কথা বলা, বাচনভঙ্গি চুম্বকের মতো আকর্ষণ করত মানুষকে। অল্প সময় কথা বললে যে কেউ তাঁর প্রতি মুগ্ধ হয়ে যেত।
আব্দুর রশীদ সরকার
উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ার পর তিনি অফিসে বসে থাকতেন না, বরং পুরো উপজেলা চষে বেড়াতেন। যাতায়াত ব্যবস্থা বলতে তখন তেমন কিছু ছিল না। পানিপথ, আর পায়ে হাঁটাই ছিল ভরসা। এরপরও প্রত্যেক মাসে প্রতিটি ইউনিয়ন সফর করে খোঁজ-খবর নিতেন জনগণের। একবারের কথা, টানা ভারী বর্ষণে কাপ্তাই লেকে হঠাৎ পানি বৃদ্ধির ফলে কালাপাকুইজ্যার অনেক বাড়িঘর ডুবে গিয়েছিল। তিনি বের হয়েছেন ডুবে যাওয়া মানুষদের উদ্ধারের ব্যবস্থা করতে। এরমধ্যেই বাসা থেকে খবর আসে তাঁর ছেলের পা ভেঙ্গে গেছে। তিনি ছেলেকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠাতে বলে নিজে ছুটলেন ডুবে যাওয়া মানুষদের দেখতে। এই ছিলেন রশীদ সরকার। এমনই একজন নেতাকে শান্তিবাহিনীর গুলিতে প্রাণ দিতে হয়েছিল ১৯৮৯ সালের ৪ঠা মে।

আটারকছড়ায় ইউনিয়নের করল্যাছড়ি আরএস উচ্চ বিদ্যালয় এবং কালাপাকুজ্যার গুচ্ছগ্রাম আজো তাঁর স্মৃতি বহন করছে। আটারকছড়া ইউনিয়নে শিক্ষা বিস্তারের জন্য করল্যাছড়ি আরএস উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করতে ১৯৮৫ সালে আব্দুর রশীদ সরকারকে সহায়তা করেছিলেন রজনী মেম্বার ও বিমল কান্তি চাকমা। এই বিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করে ইতোমধ্যে একজন বিসিএস ক্যাডার হয়েছেন। অনেকেই আছেন অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে। সর্বোপরি এলাকার ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে শিক্ষার আলো। রশীদ সরকার আজ বেঁচে নেই, কিন্তু আজো তাঁকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে লংগদুবাসী।

আব্দুর রহিম: প্রধান শিক্ষক, করল্যাছড়ি আরএস উচ্চ বিদ্যালয়।

দিশারীতে প্রকাশিত সকল লেখা একত্রে পড়তে ক্লিক করুন এখানে

No comments:

Post a Comment