Wednesday, September 20, 2017

গুলশাখালীবাসীর উন্নয়ন ভাবনা


কেউ যদি আপনাকে প্রশ্ন করে গুলশাখালীবাসীর উন্নয়ন করতে হলে কী কী করা দরকার? কিংবা গুলশাখালীবাসীর ভাগ্য বদলাতে চাইলে আপনি কোন কাজগুলো করতে চান? তাহলে আপনার উত্তর কী হতে পারে? মানুষের প্রত্যাশার শেষ নেই। শেষ নেই চাওয়া-পাওয়ার। তেমনি সে প্রত্যাশা পূরণের ভাবনা, প্রক্রিয়া এবং মাধ্যমেরও ভিন্নতা থাকা স্বাভাবিক। তারপরও কিছু বিষয় থাকে
যা প্রায় সকলের কাছেই প্রয়োজনীয়। তেমনি কিছু বিষয় হচ্ছে শিক্ষা, যোগাযোগ, চিকিৎসা, বিদ্যুৎ ও মননশীলতা চর্চার সুযোগ।


শিক্ষা
মানুষের ভাগ্য বদলানোর প্রথম এবং প্রধান হাতিয়ার শিক্ষা। যা গুলশাখালীবাসীর জন্যও সত্য। তাই এখানকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের যথাযথ শিক্ষার নিশ্চিয়তা বিধান করা প্রয়োজন। গুলশাখালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই, সংকট আছে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের। নবম-দশম শ্রেণির পাঠদানের অনুমতি আছে কিন্তু শিক্ষক নেই। যত দ্রুত সম্ভব এ অবস্থার পরিবর্তন দরকার।

প্রত্যাশা করি, আমাদের আগামী প্রজন্মের স্বপ্নবোনার কেন্দ্রবিন্দু হবে গুলশাখালী বর্ডারগার্ড মডেল কলেজ। সে কারণে প্রতিষ্ঠানটিকেও উপযুক্তভাগে গড়ে তুলতে হবে। মানবিক ও বাণিজ্যিক শাখার পাশাপাশি বিজ্ঞান বিভাগ চালু করতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে তথ্য প্রযুক্তি সমৃদ্ধ আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ।  

সবার আগে প্রয়োজন প্রাথমিক শিক্ষার নিশ্চয়তা। এ ক্ষেত্রে যুবলক্ষীপাড়া, রহমতপুর এবং শান্তিনগর এলাকার শিশুরা বঞ্চিত হচ্ছে। যুবলক্ষীপাড়ায় একটি স্কুল আছে, কিন্তু দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টাতেও সেটি সরকারিকরণ না হওয়ায় ছাত্র, শিক্ষক এবং অভিভাবকগণ হতাশ। দূরে গিয়ে শিক্ষাগ্রহণ করা সেখানকার সকল শিশুর পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টিকে ভাবতে হবে অগ্রাধিকার দিয়ে।

গুলশাখালীতে অন্তত একটি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন আছে। কেননা দেশে এবং বিদেশে বিষয়ভিত্তিক কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত লোকের চাহিদা প্রচুর। তাছাড়া কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিতরা নিজের প্রচেষ্টায় সহজেই কর্মসংস্থান করে নিতে পারে। অন্যদিকে ধর্ম সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান না থাকলে মানুষ সহজে বিপথে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই আমাদের প্রয়োজন অন্তত একটি মানসম্মত ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যেখানে ধর্মের সঠিক জ্ঞান চর্চা হবে এবং তার আলোয় আলোকিত হবে সমাজ।

যোগাযোগ
বলতে গেলে গুলশাখালী এখনও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন একটি এলাকা। লংগদু উপজেলা সদর এবং বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র মাইনী যেতে সহজ কোনো পথ নেই। ছয় মাস পানি পথে আর ছয় মাস মোটরসাইকেলে গিয়ে আবার কাচালং নদী পার হতে হয় নৌকায়। গাউচপুর হয়ে মোটরসাকেল চলার পথের ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ। মাইনী থেকে উত্তর গাঁথাছড়া হয়ে বিলের মধ্য দিয়ে একটি পথ আছে। সেটিকে সহজ করার জন্য কাচালং নদীর উপর ব্রিজের জন্য পিলার বসানো হয়েছে, কিন্তু কবে এর নির্মাণ শেষ হবে তা বলা যাচ্ছে না। আর ব্রিজটি নির্মাণ হলেও হবে না, বরং গুলশাখালীবাসী এর সুফল পেতে হলে আরও অন্তত তিনটি ছোট ব্রিজ নির্মাণ করতে হবে। পাশাপাশি উঁচু করতে হবে বিলের মধ্যকার তিন কিলোমিটার রাস্তা। আভ্যন্তরীণ রাস্তাগুলোও পাকা করার ব্যবস্থা করতে হবে। 
বিদ্যুৎ: প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে গাঁথাছড়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ আছে। শোনা যাচ্ছে গুলশাখালীর জন্যও নাকি বিদ্যুৎ লাইনের অনুমোদন হয়ে আছে। কিন্তু কোনো এক অজ্ঞাত কারণে তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। ব্যাপার যাই হোক, তার সমাধান নিশ্চয়ই আছে। আশা করি, দ্রুত বিদ্যুৎ লাইন আনতে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়া গেলে ছোটখাট মিল-কারখানা প্রতিষ্ঠাও সম্ভব হবে এখানে।

চিকিৎসা
এলাকায় কমিউনিটি ক্লিনিক আছে। তবে মানুষের যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এটা যথেষ্ট নয়। রাবেতা হাসপাতাল (বেসরকারি) এবং লংগদু সদর হাসপাতাল (সরকারি) বেশ দূরে। যোগাযোগ ব্যবস্থাও জটিল। তাই তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে কারো পক্ষে দ্রুত চিকিৎসা সেবা পাওয়া সম্ভব হয় না। তাই গুলশাখালীতে প্রয়োজন একটি উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্র। এখানে আধুনিক কোনো চিকিৎসা কেন্দ্র হলে সহজ যোগাযোগের কারণে পাশর্^বর্তী ইউনিয়নের মানুষও এর সুবিধা নিতে পারবেন।

গণগ্রন্থাগার
মানুষের জীবনে হাসপাতালের চেয়েও বেশি দরকার পাঠাগারের। যদিও আমরা তা বুঝি না। মানুষের চিন্তাধারার উন্নয়ন এবং মানসিক বিকাশে বই পড়ার বিকল্প নেই। বিকল্প নেই জ্ঞান চর্চার। আর সে জন্যই আমাদের প্রয়োজন একটি সমৃদ্ধ গণগ্রন্থাগার বা পাঠাগারের। তবে পাঠাগারে শুধু বই আর পত্রিকা পড়ার ব্যবস্থা রাখলেই এখন আর তা পূর্ণতা পায় না। এর সাথে থাকতে হবে নানামাত্রিক সাংস্কৃতিক ও বিনোদন চর্চারও সুযোগ। পাঠাগারের সাথে থাকতে হবে সারা দুনিয়ার সাথে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য ইন্টারনেট ব্যবহারের সহজ সুযোগ। থাকতে হবে আধুনিক মিলনায়তন। যাকে ঘিরে আবর্তিত হবে আবৃত্তি পরিষদ, বিতর্ক সভা, ল্যাংগুয়েজ ক্লাবসহ আরো অনেক কিছুই।

এর সাথে আর কী কী ভাবনা যোগ করা যেতে পারে?

দিশারী থেকে

1 comment:

  1. ‘গুলশাখালীর উন্নয়ন ভাবনা’ ফেসবুকে শেয়ার করে অন্যদের কাছে নতুন আইডিয়া দেয়ার আহ্বান জানিয়েছিলাম। আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে রেজাউল হক মানিক একটি চমৎকার আইডিয়া যুক্ত করেছিল।

    “রাংগামাটি একটি পর্যটন নগরী। প্রতিবছর বিপুল সংখক পর্যটক এখানে আসে।পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে গুলশাখালীতে কিছু পর্যটন স্পট নির্মান করা।তার পাশাপাশি পর্যটকদের জন্য রিসোর্ট নির্মান করা।এতে করে কর্মসংস্হান ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে।এর জন্য রহিম চেয়ারম্যানের বাগানের আশপাশের কিছু জায়গা নির্ধারন করে সেখানে কাজ করা যেতে পারে।নিরাপত্তা ব্যাবস্থা ও জোরদার করতে হবে।বি,জি,বি কে এ ব্যাপারে উদ্ভুদ্ধ করলে দ্রুত সফলতা পাওয়া সম্ভব।”

    ReplyDelete