Saturday, September 9, 2017

দিশারী’র সম্পাদকীয়


আমাদের প্রিয় গুলশাখালী অবস্থানগত কারণেই দুর্গম। এর পূর্বদিকে উঁচু পাহাড় তারপর ভারতের মিজোরাম, পশ্চিমদিকে কাচালং নদী ও কাপ্তাই লেক দ্বারা মাইনীমুখ ও লংগদু উপজেলা সদর থেকে বিচ্ছিন্ন, উত্তরে বাঘাইছড়ি উপজেলার আমতলী এবং দক্ষিণে বগাচতর ইউনিয়ন। অন্তত ৩০ মিনিট ইঞ্জিন চালিত বোটে করে
গুলশাখালী থেকে যেতে হয় অত্র অঞ্চলের বাণিজ্যিককেন্দ্র মাইনীমুখ বাজার। সেখান থেকে লঞ্চযোগে চার থেকে সাড়ে চার ঘণ্টায় রাঙ্গামাটি জেলা সদর বা খাগড়াছড়ি হয়ে সড়ক পথে সারাদেশের সাথে আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা। যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্গমতা ছাড়াও নানা কারণেই গুলশাখালীবাসীর মধ্যে শিক্ষার প্রতি যথাযথ সচেতনতার অভাব ছিল এবং এখনও আছে। আর শিক্ষাদীক্ষায় কাক্সিক্ষত অগ্রগতি না থাকায় এখানাকার মানুষদের অর্থনৈতিক ভিত্তিটাও সেভাবে মজুবত হতে পারেনি। তৈরি হয়নি মানুষের কর্মসংস্থানের বৈচিত্র্যময়তাও। সে কারণেই ১৯৯৬ সাল থেকে অত্র অঞ্চলের কতিপয় শিক্ষিত তরুণের উদ্যোগে শুরু হয় শিক্ষা প্রসারে সহায়ক একটি অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ‘ফরমার স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অব গুলশাখালী’র কার্যক্রম। ২১ বছর ধরে সংগঠনটি এলাকার কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদানের মাধ্যমে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার প্রেরণা দিয়ে আসছে। একই সাথে জ্ঞান চর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে তাদের হাতে তুলে দিচ্ছে মূল্যবান উপহার বই।

যে স্বপ্ন ও প্রেরণা নিয়ে আমাদের পথচলা তা প্রতি বছর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রচারিত হয় গুণীজনদের মুখ থেকে, আলোচিত হয় বিভিন্ন আড্ডা ও সভা-সমাবেশেও। তারপরও যেন না বলা থেকে যায় অনেক কিছুই। কিংবা যাদের জন্য যে কথাটি যে সময় প্রযোজ্য, ঠিক সে সময় হয়তো সেটি বলা হয়ে ওঠে না। তাই আজকের শিশু-কিশোর-তরুণসহ আগামী প্রজন্মের জন্য আমাদের ভাবনাগুলো, আমাদের স্বপ্নগুলো গ্রন্থিত করার প্রয়াস এই ‘দিশারী’। পাশাপাশি তাদের মননশীলতার চর্চা ও স্বপ্ন দেখার উপলক্ষও ‘দিশারী’। আগামী প্রজন্মের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য যে সকল স্বপ্ন ও ভাবনা আমাদের তাড়িত করে তা দিশারীতে স্থান পাওয়া গুণীজনদের লেখায় ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে ফুটে উঠেছে। একুশে পদক পাওয়া এদেশের সর্বোচ্চ সম্মানের অধিকারী গুরুজন এবং বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীর লেখাও ধারণ করে আছে দিশারী। ফলে এটি হয়ে উঠেছে ভিন্ন ভিন্ন প্রজন্মের চিন্তা-ধারার সমন্বিত এক বৈচিত্র্যময় সংকলন। আমাদের সংগঠন ও কার্যক্রম বাংলাদেশের একটি প্রত্যন্ত ইউনিয়নকেন্দ্রিক হলেও আমাদের ভাবনাগুলো যে শুধু ইউনিয়নকেন্দ্রিক নয় তার স্পষ্ট ছাপও আছে দিশারীর পাতায় পাতায়। 

রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটিসহ গুলশাখালীর বাইরে থেকে যেসব গুণীজন লেখা দিয়ে দিশারীকে সমৃদ্ধ করেছেন, আলোকিত করেছেন তাদের প্রতি আমাদের অশেষ কৃতজ্ঞতা। সংগঠনের সদস্যসহ অন্যান্য যারা লেখা দিয়েছেন তাদের প্রতিও রইল আন্তরিক মোবারকবাদ। কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি তাদের প্রতি যাঁরা শুভেচ্ছা বাণী দিয়ে, পরামর্শ দিয়ে, আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে দিশারী প্রকাশনায় সাহস যুগিয়েছেন। এটি প্রকাশ করতে গিয়ে সংগঠনের যে সকল সদস্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন কৃতজ্ঞতা তাদের প্রতিও। অনেক চেষ্টার পরও কিছু ভুল-ত্রুটি রয়েগেছে দিশারীতে। এসব ভুল-ত্রুটির দায়ভার কাঁধে নিয়েই প্রত্যাশা করছি, আমাদের প্রচেষ্টা পথ প্রদর্শক হয়ে থাকবে আগামী প্রজন্মের জন্য।


সৈয়দ ইবনে রহমত
সেপ্টেম্বর, ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ

No comments:

Post a Comment