নূহু আব্দুল্লাহ্
আমার, আপনার জীবন কীভাবে কাটবে তা নির্ধারিত। কিন্তু কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, কোথায় নির্ধারিত হয়েছে সেটা কি আমি, আপনি জানি? মাত্র একবার একটিমাত্র জীবন নিয়ে এই গ্রহে এসেছি। এখানে কোনো একটি দেশের নাগরিক পরিচয়ে বাস করে জীবনটা কাটাতে হবে। যে দেশে বাস করবো সেই দেশের জনগণ হিসেবে, সেই দেশের নিয়ম অনুযায়ী আমার ভাগ্য নির্ধারিত। বলাবাহুল্য, বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশের নিয়ম অনুযায়ী আমাদের ভাগ্য নির্ধারিত। এখন কথা হলো- আপনি, আমি এই নিয়মগুলো সম্পর্কে কতটুকু জানি বা জানার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি?
আমার, আপনার জীবন কীভাবে কাটবে তা নির্ধারিত। কিন্তু কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, কোথায় নির্ধারিত হয়েছে সেটা কি আমি, আপনি জানি? মাত্র একবার একটিমাত্র জীবন নিয়ে এই গ্রহে এসেছি। এখানে কোনো একটি দেশের নাগরিক পরিচয়ে বাস করে জীবনটা কাটাতে হবে। যে দেশে বাস করবো সেই দেশের জনগণ হিসেবে, সেই দেশের নিয়ম অনুযায়ী আমার ভাগ্য নির্ধারিত। বলাবাহুল্য, বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশের নিয়ম অনুযায়ী আমাদের ভাগ্য নির্ধারিত। এখন কথা হলো- আপনি, আমি এই নিয়মগুলো সম্পর্কে কতটুকু জানি বা জানার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি?
একটি উদাহরণ দিয়ে বলি- মনে করুন, জীবনকাল একটি পথ। যে পথে আপনি, আমি পথিক। এখন আপনি যদি না জানেন- কোন পথে আলো আছে, কোন পথ অন্ধকার, কোন পথ বিপদসঙ্কুল, কোন পথ আপনার জন্য কল্যাণময়, কোন পথে খানাখন্দ, কোন পথ মসৃণ, কোন পথে কে কে দাঁড়িয়ে রয়েছে আপনার সেবা করার জন্য- তবে আপনার পথ চলা কি সহজ হবে? এ ব্যাপারগুলো জানা থাকলে আপনার জীবনপথচলা অনেক সহজ হবে। কাজেই নীতিগুলো জানার কোনো বিকল্প নেই। আর একটি দেশে এই নীতিগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ নীতি হলো সংবিধান। যা সকল নীতির জন্মদাত্রী। অথচ সংবিধান তুলনামূলকভাবে অন্য সকল নীতির চেয়ে সহজপাঠ্য।
এখন একক তো বটেই এর সঙ্গে সামগ্রিক ব্যাপারটি যুক্ত করে বলি- কেন সংবিধান পাঠ করা প্রয়োজন। আপনারা জানেন, একটি দেশ প্রতিষ্ঠার জন্য মূল উপকরণ কয়টি লাগে। তবুও বলছি, মনে করুন, আমরা নতুন একটি দেশ প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছি। আমাদের ১. ভূ-খ- আছে, ২. জনগোষ্ঠী আছে, ৩. এইমাত্র স্বাধীনতা অর্জন করলাম। এখন সবাই যদি ভাবতে শুরু করি- যে যার ইচ্ছামতো চলবো- তাহলে কী অবস্থা হবে? কেমন অরাজকতা হবে? সমাজে কেমন বিশৃংখলা তৈরি হবে?
হ্যাঁ, এজন্যই প্রয়োজন চতুর্থ জিনিসটি। যা একটি নীতিমালা বা সংবিধান। যা হওয়া উচিত জনবান্ধব। যা হওয়া উচিত মানবিক। যা হওয়া উচিত সার্বজনীন। যা হওয়া উচিত ন্যায়ের ধারক। যা দুর্বল বা সবলের পার্থক্য তো করেই না বরং দুর্বলকে সবলে পরিণত করার কথা বলে। বৈষম্য দূরীকরণের কথা বলে। মানুষকে কোনো শ্রেণিবিন্যাসে নয়, বরং কেবল মানুষ হিসেবে মূল্যায়নের কথা বলে। বলাবাহুল্য, যা সবাই মেনে চলতে বাধ্য। নাহলে বিশৃংখলা এবং অরাজকতা অনিবার্য। বাংলাদেশের সংবিধান তেমনই একটি সংবিধান। বাংলাদেশের সংবিধান বিশ্বের অন্যতম মানবিক একটি সংবিধান। যা জনগণের অধিকার সংরক্ষণ করে।
রাষ্ট্র একটি কাঠামো। একটি প্রতিষ্ঠান। আর সেই প্রতিষ্ঠানের পরিচালনার জন্য কিছু মানুষের প্রয়োজন হয়। প্রয়োজন হয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের, প্রয়োজন হয় কিছু প্রশাসনিক ব্যক্তিত্বের। বাংলাদেশের সংবিধান এ সকল ব্যক্তিত্বকে বাংলাদেশের জনগণের ‘সেবক’ বলে আখ্যায়িত করে। বাংলাদেশের সংবিধানে বাংলাদেশের জনগণের সেবকদের জনগণের জন্য ‘সকল সময়ে সেবা করিতে’ সচেষ্ট থাকতে বলেছে।
বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণের জন্য তৈরি করা এ সংবিধানে বলা হয়েছে, ১. রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। ২. আইনের চোখে সবাই সমান। ৩. কারো প্রতি বৈষম্য করা যাবে না। ৪. ঘুষ যাতে কেউ না ভোগ করতে পারে রাষ্ট্র সে ব্যবস্থা করবে। ৫. ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রাষ্ট্র বনভূমি, জলাভূমি রক্ষা করবে। ৬. যে আইন জনগণের পক্ষে নয় তা আইন হবে না। ৭. সকল নাগরিকের জন্য আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করবে রাষ্ট্র। ৮. অর্থনৈতিক ব্যবস্থা হবে সমাজতান্ত্রিক। ৯. রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক সাম্য নিশ্চিত করবে রাষ্ট্র ইত্যাদি।
কাউকে কাউকে বলতে শুনেছি, সংবিধান পড়লে দেশ পরিচালনা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। আমি কিন্তু তা বলি না। আমি বলি, সংবিধান হচ্ছে সেই আইন যা নির্দেশ দেয় সরকার কীভাবে জনগণের রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। এক কথায়, বাংলাদেশের সংবিধান বাংলাদেশের মানুষের ভালো থাকার একটি আলো, একটি হাতিয়ার। কিন্তু কথা হলো, একটি হাতিয়ার তা যত শক্তিশালীই হোক, যার জন্য তৈরি হয়েছে সে যদি হাতিয়ারটির মর্ম না বোঝে, ব্যবহার প্রণালী না জানে, যদি ব্যবহার না করে তবে তা হাতিয়ারটির মালিকের কোনো কাজেই আসবে না!
তেমনি বলা যায়, হাতে ম্যাচ বা লাইট থাকতেও যদি অন্ধকারে তা না জ্বালি বা জ্বালতে না জানি তবে তো অন্ধকার কাটবে না, এটাই স্বাভাবিক। যাদের জন্য সংবিধান তারা যদি এর মর্ম না বুঝি তবে তো এমন হবেই। আর তার ফলস্বরূপ গুটিকতক মানুষ নিজেদের ফায়দা লুটতে থাকবে মানুষকে ভাগ্যবঞ্চিত করে।
নূহু আব্দুল্লাহ্: সাব-এডিটর, দৈনিক ইত্তেফাক।
নূহু আব্দুল্লাহ্: সাব-এডিটর, দৈনিক ইত্তেফাক।


No comments:
Post a Comment