Friday, August 17, 2018

তারুণ্যের পেশা ফ্রিল্যান্সিং


মো. নাসির উদ্দিন:
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার রাসেল আহমেদ এসএসসি পাস করেন ২০০৪ সালে। আর এইচএসসি ২০০৭ সালে। ২০০৬ সালে পরীক্ষা দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি পারেননি শুধু টাকার অভাবে। কম্পিউটার শেখার ইচ্ছা ছিল প্রবল, কিন্তু টাকা দেওয়ার সামর্থ্য ছিল না। তাই কম্পিউটার শিক্ষার বিনিময়ে দোকানের কাজকর্ম করে দেওয়ার চাকরি নেন রাসেল। দোকানের কাজকর্ম করার ফাঁকে ফাঁকে সেখানেই ওয়েবসাইট তৈরি করা শিখেন, কম্পিউটার প্রোগ্রামিং আয়ত্ত করেন।
এরপর অনলাইনে ফ্রিল্যান্স কাজ পাওয়ার ওয়েবসাইট ওডেস্কে (বর্তমানে আপওয়ার্ক) ২০১১ সালের ডিসেম্বরে নিজের নাম রেজিস্ট্রেশন করেন। কিন্তু সিস্টেম না বুঝার কারণে সমস্যা হতো, তাই প্রথম কাজ পেতেই সময় লেগেছিল চার মাস। এরপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। মাস ছয়েকের মধ্যেই ফ্রিল্যান্সিং করে তার আয় দাঁড়ায় মাসে এক লাখ টাকা। আর বর্তমানে তার মাসিক আয় পাঁচ লাখ টাকার বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের পারফেক্ট পয়েন্ট মার্কেটিং নামের একটা কোম্পানির অংশীদারও রাসেল। তাছাড়া আরআর ফাউন্ডেশনসহ দেশেই রয়েছে তার একাধিক সফল প্রতিষ্ঠান। তিনি শুধু একা নন, তাঁর হাত ধরে ফ্রিল্যান্সিং করে সফল হয়েছে আরও বহু তরুণ।

ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন দেশে সার্বক্ষণিক স্টাফ রেখে অফিসের সকল কাজ করানো ব্যয়বহুল। তাই সেখানকার সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানসহ ব্যক্তি পর্যায়েও অনেকে তাদের প্রয়োজনীয় কাজের জন্য সাময়িক সময়ের জন্য কাউকে কাউকে হায়ার করেন। এটা হতে পারে এক বা একাধিক কাজ করে দেওয়ার ভিত্তিতে কিংবা ঘণ্টা, দিন, সপ্তাহ বা মাস হিসেবে। কাজেরও কোনো শেষ নেই; আর্টিক্যাল রাইটিং, ডেটা এন্ট্রি, প্রোগ্রামিং, মার্কেটিং, টাইপিং, ডিজাইনিং, ইমেজ এডিটিং, প্রেজেন্টেশন তৈরি, ডেভেলপমেন্ট, ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্টসহ অসংখ্য কাজ আছে। আর এসব কাজ পাওয়ার জন্য রয়েছে বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস বা ওয়েবসাইট। যাদের কাজ করানোর প্রয়োজন তারা তাদের কাজের ধরনসহ বিস্তারিত এসব ওয়েবসাইটে তুলে দিয়ে যারা কাজগুলো করে দিতে আগ্রহী তাদের আবেদন করতে বলেন। আগ্রহীরা আবেদন করলে সেখান থেকে যাচাই করে একজনকে কাজটি দেওয়া হয়। যিনি কাজটি পেলেন তিনি নিজের ঘরে বসেই সেটি সম্পন্ন করে আবার সেই ওয়েবসাইটের মাধ্যমেই জমা দেন। কাজ দেখে যদি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সন্তুষ্ট হয় তাহলে পাওনা বুঝিয়ে দিয়ে তারা সেটি গ্রহণ করেন। মার্কেটপ্লেস বায়ার এবং কাস্টমারদের মাঝখানে যুগসূত্র হিসেবে কাজ করে, এর বিনিময়ে আপনার আয়ের সামান্য কিছু অর্থ কেটে রাখে। এভাবেই চলছে ফ্রিল্যান্সিং। এ ফ্রিল্যান্সিংয়ে বর্তমানে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের কাজ হচ্ছে। আর এসব কাজের বেশিরভাগই করছে আমাদের পাশের দেশ ভারতের তরুণরা। তবে আমাদেরও হতাশ হওয়ার কিছু নেই। বাংলাদেশি তরুণরাও তাদের দক্ষতার প্রমাণ দিয়ে বিপুল পরিমাণ কাজ করছেন। ফলে ফ্রিল্যান্সিংয়ে ভারতের পরেই এখন উচ্চারিত হচ্ছে বাংলাদেশের নাম। রাসেল আহমেদের মতো এদেশের অনেক তরুণ নিজের প্রচেষ্টায় ফ্রিল্যান্সিং শিখে ইতোমধ্যে সফল হওয়ায় তাদের হাত ধরে দেশে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রাও আসছে। আর এ পেশার সম্ভাবনা বিবেচনা করে সরকারও নজর দিয়েছে দেশে দক্ষ ফ্রিল্যান্সর তৈরি করার দিকে।

তাছাড়া স্বাধীনভাবে করা যায় বলে বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং পেশা হিসেবে খুবই জনপ্রিয় ও আলোচিত। আপনিও হতে পারেন একজন সফল ফ্রিল্যান্সার। বিশেষ করে যারা লেখাপড়া করছি, অথবা লেখাপড়া শেষ করে চাকরির জন্য ঘুরছি তারাও ফ্রিল্যান্সিংকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে পারি। ফ্রিল্যান্সিং করতে হলে আপনার অবশ্যই কিছু যোগ্যতা থাকতে হবে; আর তা হলো ধৈর্য আর নিরবিচ্ছিন্ন শ্রম দেওয়ার মানসিকতা। ধৈর্য আর শ্রম দেওয়ার মনমানসিকতা থাকলে আপনি শুরু করতে পারেন। যেসব ওয়েবসাইটে ফ্রিল্যান্স কাজ পাওয়া যায় এমন কয়েকটি ঠিকানা নিচে উল্লেখ করছি।
www.Upwork.com
www.freelancer.com

www.fiverr.com

এছাড়া আরো অনেক মার্কেটপ্লেস রয়েছে। কাজ শুরুর আগে আরো পড়ুন, জানুন; তারপর ভালো লাগলে ফ্রিল্যান্সিংকে ক্যারিয়ার হিসেবে নিন। তবে শুধু হুজুগে ফ্রিল্যান্সিংয়ে আসবেন না। কারণ এখানে সফল হওয়ার কোনো শর্টকাট রাস্তা নেই। কম্পিটারের কাজ শিখে আগে দক্ষতা অর্জন করুন, তারপর প্রচুর পরিশ্রম আর ধৈর্য ধরে এগুতে থাকুন। তাহলেই সফলতা আসবে।

নাসির উদ্দিন : উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা, সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম।

No comments:

Post a Comment