মো. হান্নান শাহ্:
বাংলাদেশের এক-দশমাংশ পার্বত্য চট্টগ্রাম। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রাণকেন্দ্র রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান। এ অঞ্চলাধীন রাঙ্গামাটি জেলার অন্তর্গত লংগদু উপজেলায় বিভিন্ন জনগোষ্ঠির মানুষ বসবাস করে। এখানকার পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী জনগোষ্ঠিসমূহের মানুষ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়। কেউ বন্য হাতির আক্রমণে হতাহত হয়। আবার কেউ অনেক কষ্টে করা ফসল বন্য হাতির আক্রমণ থেকে জীবন রক্ষার তাগিদে ছেড়ে দিয়ে আসতে বাধ্য হয়। এছাড়াও এখানে প্রাকৃতিক ও মনুষ্য সৃষ্ট নানা সমস্যা বিদ্যমান।
প্রতি বছর বর্ষাকালে একটানা কয়েকদিন ভারী বর্ষণ হলে অপ্রত্যাশিত বন্যার ঘটনাও ঘটে। আবাদকৃত জমি ও বসতবাড়ি জলমগ্ন হয়ে পড়ে। পাহাড় ধসে মাটি চাপায় পড়ে বহু জানমালের ক্ষতি সাধিত হয়। তখন অনেকেই নিজস্ব ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরুপায় হয়ে অন্যত্র বা আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নিতে বাধ্য হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামে বিদ্যমান সমস্যার যৌক্তিক সমাধান না হওয়ায় জনজীবন অস্বাভাবিক। এখানে পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটি কৃষক, জেলে, দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কিংবা অন্যকোন স্বল্প আয়ের পেশায় নিয়োজিত। অভাব হয় তার নিত্য সঙ্গী। খরচের ভয়ে বাবা-মা তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে আগ্রহ দেখায় না। বরং তারা এদের কাছে তাদের সংসারের কাজের সহযোগিতা কামনা করে। আবার পড়াশোনা শুরু করলেও কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছার মতো সহযোগিতা পায় না। এমতাবস্থায় শিক্ষার্থীদের প্রতি কিছু পরামর্শ: ১. ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়- এই নীতে বিশ্বাস রাখা। ২. নিজ উদ্যোগে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া। কেননা, শিক্ষার বিকল্প কিছু নেই। ৩. পড়াশোনার পাশাপাশি আয় বর্ধক কাজ করা। ৪. অর্জিত আয় যতটুকু সম্ভব ব্যাংকে স্কুল ব্যাংকিং হিসাব খোলার মাধ্যমে সঞ্চয় করা। এতে সঞ্চিত অর্থ আপদকালে সহযোগিতা যোগাবে। ৫. পিতা-মাতাকে তাদের নামে ব্যাংকে মাসিক সঞ্চয় স্কিম(এমএসএস) অথবা সঞ্চয়ী হিসাব খোলার মাধ্যমে ব্যাংকিং লেনদেনের সাথে যুক্ত করা। এতে সঞ্চিত বাড়তি আয় উপকারে আসবে।
শিক্ষক এবং অভিভাবকরাও এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে তাদের পড়াশোনা থেকে ঝড়ে পড়া থেকে রক্ষা করতে পারেন।
হান্নান শাহ্: পরিদর্শক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক লি., লংগদু শাখা।

No comments:
Post a Comment