ছামাদুল হক:
প্রাণি সম্পদের গুরুত্ব আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে অপরসীম। দুধ, মাংস ও ডিম উৎপাদন ছাড়াও আত্মকর্ম সংস্থানসৃষ্টিসহ আর্থসামাজিক উন্নয়নে প্রাণি সম্পদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশের মোট কর্মশক্তির শতকরা ২৫ ভাগ জনগোষ্ঠি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি পালন করে থাকে।
এদেশের ভূমিহীন কৃষক, প্রান্তিক চাষী, বেকার যুবক, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা মহিলারা বসতবাড়ির আঙ্গিনায় গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি পালন করে থাকেন। আমরা গ্রামের বাড়িতে লক্ষ করলে দেখতে পারি যে, গরিব ও দরিদ্র মানুষগুলো এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খামার স্থাপন করে তার আয় দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে চলছে এবং দেশের জাতীয় পর্যায়ে আমিষ ও পুষ্টির চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখছে। তবে এত বড় জনগোষ্ঠিকে যদি উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় তা হলে প্রাণি সম্পদ বিভাগ আমাদের দেশে আরও ব্যাপক সাড়া জাগাবে। প্রাণি সম্পদ পালনে যদি আমাদের দেশের শিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠি উৎসাহিত হয়ে ক্ষুদ্র বা মাঝারি খামার স্থাপন করে তাহলে দেখা যাবে যে, তার নিজের বেকারত্ব লাঘব হবে এবং ২/৪ জন বেকার লোকের কর্মসংস্থানও তিনি নিজেই সৃষ্টি করতে পারবেন। এভাবে যত বেশি খামার স্থাপন করা হবে ততবেশি বেকারত্বের হার হ্রাস পাবে এবং দেশের পুষ্টির চাহিদা পূরণ হবে এবং কর্মসংস্থান হবে। তাই দেশের শিক্ষিত বেকার যুবকেরা জীবন গঠনের স্বপ্নে হতাশ না হয়ে গবাদী পশু পালনে উদ্যোগ নিতে পারে। তবে শুরুতে উন্নত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খামার স্থাপন করে কর্মদক্ষতাকে কাজে লাগাতে হবে। তাহলেই খামার থেকে আসবে কাক্সিক্ষত উৎপাদন, ফলে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়ে পরিবারের অভাব দূর করার পাশাপাশি জাতীয় ক্ষেত্রেও অবদান রাখা সম্ভব।
ছামাদুল হক: মাঠসহকারী, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক, লংগদু শাখা।

No comments:
Post a Comment