Friday, August 17, 2018

দিশারী কাব্য-১


বৃষ্টির সৃষ্টি
মেহেদী হাসান পলাশ
[চেয়ারম্যান, সিএইচটি রিসার্চ ফাউন্ডেশন]

কাল ছিল মেঘ ভাঙা রোদ
আজ হলো বৃষ্টি
কাল ছিল বীজ রোপা দিন
আজ হলো সৃষ্টি।


নদী ছিল পাড় ভাঙা ঢেউ
পাল তুলে দিয়েছিল কেউ
ওলি ছিল লাজ রাঙা ফুলে
কেঁপে কেঁপে উঠেছিল দুলে।

রাগ ছিল অভিমানে ভরা
যেন রোদ লাগে মিঠে কড়া
ঘাম ছিল যেন নাক ফুলে
সব বাঁধ খুলেছিল ভুলে।

কাল ছিল মেঘে ঢাকা চাঁদ
এতো দেখে মেটেনিতো সাধ।

এই গান বৃষ্টির দিনে
আনমনে গাই মনে মনে।
২১-০৫-২০১৩


জীবন গড়া
মো. আনিছুর রহমান 
[প্রধান শিক্ষক(অব.), গুলশাখালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়]
জ্ঞানী হবার উদ্দেশ্যে, জ্ঞান অর্জনে লেখাপড়া
এর নাম জীবন গড়া।
বাহ্যিক আচার-আচরণ পরিবর্তনে লেখাপড়া
এর নাম জীবন গড়া।
আদর্শ চরিত্র গঠনের অঙ্গীকার লেখাপড়া
এর নাম জীবন গড়া।
ন্যায়ের পথে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে লেখাপড়া
এর নাম জীবন গড়া।
সততা, সৎসাহস, শক্তি অর্জনে লেখাপড়া
এর নাম জীবন গড়া।
একতা, দেশাত্ববোধ জাতীয় ঐক্য সৃষ্টিতে লেখাপড়া
এর নাম জীবন গড়া।
সকল হিংসা অহংকার গর্ব ভেদাবেদ পরিহারে লেখাপড়া
এর নাম জীবন গড়া।
মা-বাবার প্রতি শ্রদ্ধাভক্তি, সেবার লক্ষ্যে লেখাপড়া
এর নাম জীবন গড়া।
গরিব দুঃখী রুগ্ন অসহায়দের সাহায্যে লেখাপড়া
এর নাম জীবন গড়া।
মহান সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে কিছু সৃষ্টিতে লেখাপড়া
এর নাম জীবন গড়া।
পার্থিব ও পরকালের ভালোকর্ম ও কবর স্মরণে লেখাপড়া
এর নাম জীবন গড়া।


খুঁজে ফেরা
 মো. মোসলেম উদ্দিন
[সহকারী শিক্ষক, গাঁথাছড়া গাউচপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়]

চন্দ্র হয়ে জোস্না ঝরাও
আমার আঁধার ঘুঁচলো কই?
ঝর্ণা হয়ে ঝরতে থাকো
আমার বুকে ঝরলে কই?

ভ্রমর হয়ে ফুল ফোটালে
আমার গোলাপ ফুটলো কই?
বৃষ্টি হয়ে ভেজাও তবু
আমার উঠোন ভিজলো কই?

ভোরের আলোর শিশির কণায়
তোমার প্রদীপ জ্বলছে ঐ।
রংধনুর ঐ সাতটি রঙে
তোমার চুলের বাহার কই?

আমার প্রেমের রাজ মুকুটে
মানিক হয়ে জ্বলছ কই?
শাপলা ফুলের শুভ্রতাতে
তোমার মুখের ছবি ঐ।

পুষ্প দলের শত রঙে
তোমার হাসি দেখছি কই?
ছোট্ট ঢেউয়ের কাজল ঝিলে
ছন্দটা আজ দেখছি কই?

তোমার চোখের মনিটাতে
আমার ছবি ভাসছে কই?
তোমার শাড়ির আঁচল ওড়ে
বলাকাদের পাখায় কই?

নীল আকাশটা ভাবছে যেন
নীলাম্বরী শাড়ি হই।
মনের কোণে সুর তুলে আজ
আমায় সাহস যোগাও কই?

শিউলি ফুলের মালা হয়ে
আমার গলায় ঝুলছো কই?
আশায় আশায় বুক বেঁধেছো
হাত বাড়িয়ে ডাকলে কই?
এলো চুলে ঘোমটা টেনে
কাজল বধু সাঁজলে কই? (সংক্ষেপিত)



শ্রাবণের ধারা
মো. কামাল হোসাইন
[সহকারী শিক্ষক, রাজনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়]

কখনো বিরহী মন ডুবে যায় শ্রাবণের অঝোর ধারায়
কখনো সন্ধ্যা নামে কৃষ্ণচূড়া আর বাঁশবনের মাথায়,
আঁধারে ডুবে যায় পাঠশালা আর ঝুপড়িগুলো হাটের
জলের নামতা পড়তে থাকে পাতাগুলো কাঁঠালের;
সোনা ব্যাঙগুলো ডাকে অবিরাম ডুবাতে বাড়ির পাশে
ডুবে যাওয়া আউশ ক্ষেতে হাঁস ঝাঁকবেঁধে ভাসে।

কখনো মোরগ ফুলের চোখে জমে থাকে বৃষ্টির জল
কখনো কালো মেঘ থামিয়ে দেয় হাটের কোলাহল।
কখনো ভোরের বাতাসে নৌকা চলে ঢেউয়ের তালে
কখনো জেলেরা মাছ ধরে বৃষ্টি ভেজা জলে।
ভোরের আলোয় কর্মজীবীরা যেন কুয়াশার পথিক
করে সবে ছোটাছুটি লক্ষ্যহীন দিগি¦দিক।

সোনাপুর গ্রামের ভিজে উঠা বাতাস, পাতাদের দিকে
সকলেই চেয়ে থাকে অজানা এক মৃত্যু শোকে।
চারিপাশে বিরহ সংগীত বাজে সর্বক্ষণ,
শ্রাবণের অঝোর ধারায় ডুবে থাকে উদাস মন।

No comments:

Post a Comment