রফিকুল ইসলাম::
পাকিস্তানের শোষণ থেকে মুক্ত হয়ে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত অসম্প্রদায়িক সুখী-সমৃদ্ধ দেশ গড়তেই ১৯৭১ সালে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা লাভ করে বাংলাদেশের মানুষ। যুদ্ধ জয়ই সব নয়, স্বাধীনতার পূর্ণতা তখনই সম্ভব যখন এ দেশের মানুষ ক্ষুধা-দারিদ্র্যকে জয় করতে পারবে। সে পথে আমরা ইতোমধ্যে অনেকটা পথ অতিক্রমও করেছি। আমরা উপনীত হতে যাচ্ছি মধ্যম আয়ের দেশে। কিন্তু সত্যিই কি আমরা দারিদ্র্যকে জয় করতে পেরেছি?
তবে অবস্থাদৃষ্টে বোঝা যায়, মানুষের জীবনযাত্রার মানে অনেক পরিবর্তন এসেছে। তার পরেও ১৬ কোটি মানুষের এ দেশ বন্যা, খরা, মঙ্গা, অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি, নদী ভাঙ্গন, পাহাড়ধসসহ বিভিন্ন প্রকৃতিক দুর্যোগে আক্রান্ত। ফলে জনজীবন বিপর্যস্ত, দরিদ্র অবস্থার পরিবর্তন আনতে অনেককে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তার পরেও নিজেদের বাঁচার তাগিদে দৃঢ় মনোবল ও সহনুভূতিশীল এ দেশের মানুষের একে অপরের বিপদে এগিয়ে আসার প্রবণতা ও রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতায় জনজীবন স্বাভাবিক ও দারিদ্র্য বিমোচনে ভূমিকা রাখছে।
গ্রামের দরিদ্র মানুষের উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বপ্ন দেখতেন, তিনি স্বপ্ন দেখতেন দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের। এ প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য ছিল, ‘আমার দেশের প্রতিটি মানুষ খাদ্য পাবে, আশ্রয় পাবে, শিক্ষা পাবে, উন্নত জীবনের অধিকারী হবে এই হচ্ছে আমাদের স্বপ্ন’। তিনি আরও বলেছেন, ‘আমার প্রিয় কৃষক-মজুর, জেলে, তাঁতি ভাইদের সাহায্যে এমন একটি নতুন সুষম ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে যা শোষণ ও প্রতিক্রিয়াশীল কোটারী স্বার্থকে চিরদিনের জন্য নস্যাৎ করে দেবে।’
বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত মানুষদের সঞ্চয় ও উৎপাদনমুখী কর্মকা-ে আত্মনিয়োগে উৎসাহীত করে দারিদ্র্য বিমোচনের লাগসই একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান হলো ‘একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প’। গ্রামীণ পর্যায়ে স্থায়ী পুঁজিগঠন করে একটি বাড়িকে একটি খামারে পরিণত করে সার্বিকভাবে অর্থনৈতিক ক্ষুদ্র কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত করাই এ প্রকল্পের লক্ষ্য। এই প্রকল্পের সাথে জড়িত দরিদ্র জনগোষ্ঠির বংশ পরস্পরায় জমাকৃত সঞ্চয় ও পুঁজিকে স্থায়ীভাবে রাখার নিরাপত্তা ও পুঁজির ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং বঙ্গবন্ধুর দারিদ্র্য বিমোচনের স্বপ্ন বাস্তবায়নে তারই সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য চালু করেছেন ‘পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক’ নামে একটি সরকারি ব্যাংক। এ প্রসঙ্গে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা শত্রুকে মোকাবেলা করে, যুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করেছি। এখন আমাদের যে যুদ্ধ সেটা হচ্ছে দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে, বাংলাদেশকে আমরা দারিদ্র্যমুক্ত করতে চাই। কাজেই আমাদের এখন প্রধান শত্রু হচ্ছে দারিদ্র্য। এই দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে আমাদেরকে লড়াই করতে হবে অর্থাৎ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য মনপ্রাণ দিয়ে কাজ করতে হবে।’
বাংলাদেশের দরিদ্র্য জনগোষ্ঠিকে সচেতন, মিতব্যয়ী, সঞ্চয় প্রবণতায় আগ্রহ সৃষ্টি করে মহাজনী সুদপ্রথা থেকে বের করে এনে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতেই চালু করা হয়েছে ‘একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প’ ও ‘পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক’। আর এই জন্যই সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি সমাজের উচ্চবিত্তরা যদি দারিদ্র্য বিমোচনে এগিয়ে আসেন, এ দেশ খুব দ্রুত দারিদ্র্যের অভিশাপ থেকে মুক্ত হবে ইনশাল্লাহ।
রফিকুল ইসলাম: উপজেলা সমন্বয়কারী ও ম্যানেজার (সা.দা.), একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক, পানছড়ি শাখা, খাগড়াছড়ি।


No comments:
Post a Comment