মো. আবুল হোসেন::
বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর নিকট মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পক্ষ হতে প্রেরণকৃত সর্বপ্রথম বাণীর প্রথম শব্দটি ছিল ‘ইক্রা’ অর্থাৎ পড়। ইসলামের মহান ব্যক্তিত্ব হযরত মুহাম্মদ (সা.)কে আল্লাহপাক প্রথম বাণী প্রেরণের সময় পড়ার নির্দেশ প্রদান করেছিলেন। এটা থেকেই অনুধাবন করা যায় যে পড়ার গুরুত্ব অনস্বীকার্য।
শিশুরা যখন কথা বলতে শিখে, তখন থেকেই তার পিতা-মাতা তাকে মুখে মুখে বর্ণমালা পড়তে শেখায়। এখানেই শুরু হয় মানবশিশুর শিক্ষাজীবন। গুণীজনেরা বলেন,
‘শিক্ষার শেষ নেই’। আর বিদ্যা অর্জনের অন্যতম পদ্ধতি হলো পড়ার মাধ্যমে শেখা। তবে জ্ঞানার্জনের আরও কিছু পন্থা রয়েছে। যেমন: দর্শন, শ্রবণ, করণ ইত্যাদি। সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর পন্থা হলো পড়া অর্থাৎ বই পড়া। আর বই পড়ার মাধ্যমেই শিশুর শিক্ষাজীবন শুরু হয়ে চলতে থাকে জীবনব্যাপিয়া।
বিদ্যার্জনের জন্য যেমন বইপড়া আবশ্যক, তেমনি আনন্দলাভ এবং একাকীত্বকে জয় করার জন্যও বইপড়া প্রয়োজন। শ্রেণিশিক্ষা কার্যক্রমের জন্য প্রণীত নির্দিষ্ট পাঠ্যবই পড়ে ভালো ফলাফল অর্জন করা যায়। পাঠ্যবইয়ের বাহিরেও বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে প্রতিটি শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনে শুধুমাত্র শ্রেণিশিক্ষার পাঠ্যবই অধ্যয়নের মাধ্যমে পরিপূর্ণ জ্ঞানার্জন সম্ভব নয়। একটি সুষ্ঠু ও সফল জ্ঞানের আধার নিজের মধ্যে সৃষ্টি করতে হলে ধর্ম, সাহিত্য, বিজ্ঞান, ইতিহাস, গণিত, দর্শন অধ্যয়নের পাশাপাশি আধুনিক বিশ্বের চলমান বিষয়গুলোতেও ভালো দখল রাখতে হবে। আর এর জন্য থাকা চাই বই পড়ার অভ্যাস।
![]() | ||
| মনোযোগী পাঠক গুলশাখালী রসুলপুরের মো. আব্দুর রশিদ (৯০) |
আজকের বিশ্বসভ্যতা যত দ্রুত চরম উন্নতির পথে ধাবমান, মানুষ ততটাই আত্মকেন্দ্রিকতার বেড়াজালে বন্দী। কর্ম চঞ্চলতার চাপে সবাই ব্যস্ত, তাই আগেকার মতো কেউ কাউকে অতটা সময়-সঙ্গ দিতে পারে না। একজন যখন কর্মব্যস্ততার পর অবসরে থাকে, অন্যজন তখন হয়ে পড়ে কর্মব্যস্ত। ফলে অনেকের ভিড়েও মানুষ একাকী হয়ে যায়। এহেন একাকীত্বের সময় শুধুমাত্র বই-ই হতে পারে নিঃস্বার্থ বন্ধু এবং সঙ্গী। সবসময় বই কেবল দিয়েই যাবে উজাড় করে; কখনও বিনিময় চাইবে না। এমন বন্ধু বই ছাড়া আর কে হতে পারে?
এই বন্ধু চিরযৌবনা, যার রূপ কোনো দিন শেষ হয়ে যায় না। কোনো ভ্রমণে, অচেনা শহরে স্বজন ও বন্ধুহীনা কোনো ব্যক্তির জন্য বই-ই হতে পারে অতি আপন একজন বন্ধু ও সহায়ক। যার বই পড়ার অভ্যাস আছে তার বন্ধু খুঁজতে হয় না। অবসরের সঙ্গী, ভ্রমণের সাথী, জ্ঞানার্জনের শিক্ষক সবই হতে পারে বই। আনন্দলাভের জন্য ছড়া, কবিতা, রম্য, উপন্যাস ও প্রবন্ধ পাঠ করা যেতে পারে, তেমনি জ্ঞানার্জনের জন্য বিজ্ঞান, গণিত ও সাধারণ জ্ঞানের চর্চা এবং অতীত ঐতিহ্য ও কৃষ্টি-সংস্কৃতি জানার জন্য ইতিহাস সংক্রান্ত গ্রন্থপাঠ হতে পারে সহায়ক বা শিক্ষক।
আধুনিক সভ্যতার উন্নতির সাথে সাথে কিছু অনাচার বিপথগামী মানুষের হাত ধরে আমাদের পিছু পিছু ধেয়ে চলেছে। তাই কেবল বই নয় ভালো বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। যেনতেন বই পড়লেই বই পড়ার সার্থকতা অর্জন হবে না। পড়ার আগে অবশ্যই ভালো বই নির্বাচন করতে হবে। ভালো বই পড়ার অভ্যাস আমাদের শিক্ষাজীবন থেকেই গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই বই পড়ার মাধ্যমে নিজের পরিবোরের, সমাজের, দেশের তথা বিশ্বের উন্নয়নে ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
বিশ্বসভ্যতার বড় বড় আবিষ্কারের তথ্য, রাজ্য-মহারাজ্য বিনির্মাণের ইতিহাস, রাজনীতির জয়-পরাজয়, বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ, মহামানবের জীবনী সবই বই আকারে লিপিবদ্ধ রয়েছে। বই পড়ার মধ্য দিয়েই এসব বিষয়ের জ্ঞানার্জন সহজেই সম্ভব; তাই বলা যায়, বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই, অর্থাৎ পড়ার কোনো পরিপূরক নেই।
আবুল হোসেন: রাজনগর, গুলশাখালী (বর্তমানে বগুড়া) নিবাসী।


No comments:
Post a Comment