Friday, August 17, 2018

দিশারী কাব্য-৩

রঙিন পৃথিবী
জাহিদুল ইসলাম
[উদ্ভিদ বিদ্যা, ৩য় বর্ষ, রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজ]

ঝিলমিল সাজে তারার সাথীরা
ডেকেছে আলোর মেলা,
এসো চাঁদ, এসো জোনাকীর ঝাঁক
করি সবাই আজ খেলা।

মৃদু হাওয়া আর মিষ্টি গন্ধ
রয়েছে আকাশ জুড়ে,
ও বসন্তের পাখি তোর ডাকে যে
ঘুম নেই দু’টি চোখে।

নানা রঙের ফুলে ফলে ভরা
গ্রামের ছোট্ট বাড়ি,
বৃদ্ধ কিশোর আর দুরন্ত শিশুরা
নিয়েছে এ মন কাড়ি।

নদীকুল বেয়ে না’য়ের মাঝি
গেয়ে উঠে যেই গান,
রাখালের বাঁশির সুরেও সবার
কেড়ে নেয় মন প্রাণ।

কাশফুল দুই পাড় জুড়ে
অহর্নিশি দেয় দোলা,
অতিথি পাখিরাও সমান তালে
নেচে যায় সারাবেলা।

ভোরের আকাশে আলোর প্রহরী
দিচ্ছে যখন উঁকি,
শিশির ফোটা ঝিলমিল আলোয়
নিয়েছে বিদায় নিশি।

ছোট ছোট মেঘ আকাশের বুকে
করছে যখন ভিড়,
অজানা ব্যাথায় কাঁদছে আকাশ
পায়নি সে কোনো তীর।

নীল আকাশ আজ হয়েছে কালো
নেমেছে ঝড়-বৃষ্টি,
কত হাসি কত গান ছিল তার
স’বি হলো অদৃষ্টি।

খোকার ছবি
মো. নুর আলম
[দ্বাদশ শ্রেণি, গুলশাখালী বর্ডার গার্ড মডেল কলেজ]

বিজয় দিবস এলে, জল নামে মায়ের দুচোখ ভরে
ছেলে হারা মায়ের খোকন আসে না আর ফিরে।
পথ চেয়ে মা কাটায় দিবস কাটায় কত রাত
আসবে খোকা ধরবে মায়ের বাড়িয়ে রাখা হাত।

দুচোখ বেয়ে জলের ধারা বইছে নিরবধি
মায়ের চোখে কান্না ঝরে বইছে ছোট নদী।
একাত্তরে গেছে খোকা রক্ত রণাঙ্গনে
ফুলের মত মুখটি খোকার পড়ছে মায়ের মনে।
ঘুরে ফিরে বারে বারে বিজয় দিবস আসে
পতাকার ওই লাল বৃত্তে খোকার ছবি ভাসে।

বাংলা ভাষা
মাস্তুরা মনি
[দ্বাদশ শ্রেণি, গুলশাখালী বর্ডার গার্ড মডেল কলেজ]

দুঃখ কষ্টের, হাসি কান্নার
মনের যত আশা
বাংলা আমার আমি বাংলার
বাংলা মাতৃভাষা।

এই দেশেতে আছে যত শ্রমিক মজুর চাষা
বাংলা তাদের, বাংলা সবার
বাংলা প্রাণের ভাষা।

এই ভাষাতে হাসতে পারি বলতে পারি
গাইতে পারি গান
রক্তে কেনা বাংলা ভাষা
বিধাতারই দান।

বৃষ্টি
শহিদুল ইসলাম শহিদ
[বিএসএস, রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজ]

হঠাৎ বৃষ্টি এলো ধরায়
মন ছুটে যায় মাঠের কিনারায়;
রিমঝিম বৃষ্টি পড়ছে অঝোরে
এমনি সময় তোমায় মনে পড়ে।

বাইরে যখন ঝন ঝন বৃষ্টি
মনে পড়ে উদাস সেই অন্তহীন দৃষ্টি;
যদিও আজ পাশে নেই, তবু জানি
করে আনচান তব পরান খানি।

চলছে নদী
রুমানা আক্তার
[নবম শ্রেণি, গুলশাখালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়]

নদী চলছে এঁকে বেঁকে
সীমানা ছাড়িয়ে
পৃথিবীর মরুপথে।

তীরে তীরে তার
শস্য-শ্যামল ফসলের মাঠ
সবুজ চাদরে ঢাকা,
বুকে নিয়ে ঢেউ
চলছে এঁকে বেঁকে
সীমানা ছাড়িয়ে।

সূর্যের আলোয় করে ঝিকিমিকি
চাঁদের আলোয় মায়াভরা রূপ,
তাই নিয়ে চলছে এঁকে বেঁকে
সীমানা ছাড়িয়ে।


হাসি
মো. মাহাবুবুর রহমান
[একাদশ শ্রেণি, রাবেতা মডেল কলেজ]

হাসি পেলে হাসতে পার
খলখলানো হাসি,
লক্ষ রেখ, মুখের ভেতর
ঢুকতে পারে মাছি।

যেমন খুশি হাসতে পার
পেলে কাতুকুতু,
লক্ষ রেখ কারও গায়ে
যেতে পারে থু-থু।

হাসি পেলে হাসতে পার
হাসিতে নেই পাপ,
লক্ষ রেখ দাঁতগুলো সব
আছে নাকি সাফ।

হাসি পেলে হাসতে পার
নেইতো কোনো বাধা,
কথায় কথায় হাসলে পরে
লোকে বলবে গাধা।


কোথায় গেল
খালিদ সালমান পারভেজ
[দশম শ্রেণি, সীমান্ত প্রহরী আদর্শ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়]

যায় না দেখা মাঠে আজ
বলদ দিয়ে চাষ
গাছগাছালির ডালে এখন
হয় না পাখির বাস।

যায় না পাওয়া খালে-বিলে
আগের মত মাছ
সবুজ বন আর যায় না দেখা
হচ্ছে উজার গাছ।

আগের মত নেইতো কিছুই
স্বাদটাও নেই আমে
দেয় না তো কেউ পত্র লিখে
হলুদ রাঙা খামে।

যায় না শোনা রাখাল ছেলের
মিষ্টি বাঁশির সুর
কোথায় গেল হারিয়ে এসব
সুন্দর অচিনপুর।

No comments:

Post a Comment