আবুল কালাম আজাদ::
পৃথিবীতে আড়াই হাজারেরও অধিক ভাষা রয়েছে। মনের ভাব পরিপূর্ণভাবে প্রকাশ করার জন্য কিংবা তৃপ্তি সহকারে প্রকাশের জন্য মাতৃভাষার বিকল্প কিছু হতে পারে না। কিন্তু সমস্যা হয় দুই ব্যক্তি ভিন্ন ভিন্ন মাতৃভাষায় কথা বললে। সে ক্ষেত্রে একটি প্রধান ভাষার সাহায্য নিতে হয়। রাষ্ট্রের সীমানায় এরকম একটা প্রধান ভাষা কিংবা রাষ্ট্রীয়ভাষা ভাব আদান-প্রদানে সমাধান দিতে পারে। কিন্তু রাষ্ট্রের গণ্ডি পেরুলেই এই রাষ্ট্রীয়ভাষাও সমস্যার সমাধান দিতে পারে না। তাই সে ক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষার সাহায্য নিতে হয়। আন্তর্জাতিক জীবন থেকে পারিবারিক জীবন পর্যন্ত সর্বত্রই আজকাল ইংরেজি ভাষার ব্যবহার হচ্ছে। ছাত্রজীবনে যারা ইংরেজি ভালো বলতে কিংবা লিখতে পারে, ভালো চাকরিতে সুযোগ তারাই পাচ্ছে। যে ব্যবসায়ী ভালো ইংরেজি জানেন, তিনি ব্যবসায় উন্নতি করছেন। ন্যায়বিচার পেতে হলেও যেমন ইংরেজি দরকার, তেমনি উচ্চশিক্ষা অর্জন করতে হলেও ইংরেজি প্রয়োজন।
ইংরেজিকে এড়িয়ে যাবার কি কোনও উপায় আছে? শিক্ষাজীবনের অভ্যন্তরীণ লক্ষ্য যাই হোক না কেন, বাহ্যিক লক্ষ্য নিশ্চয়ই ভালো চাকরি পাওয়া। প্রশ্ন হলো, ভালো চাকরি পাবেন কে? যিনি গতানুগতিকভাবে শিক্ষা জীবন শেষ করেছেন এবং অনেকগুলো সার্টিফিকেট অর্জন করেছে তিনি না যিনি গতানুগতিক শিক্ষা ও সার্টিফিকেট অর্জনের পাশাপাশি ইংরেজি ভাষাকে ভালোভাবে রপ্ত করেছেন তিনি?
ইংরেজি ভাষা পৃথিবীজুড়ে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত ও স্বীকৃত ভাষা। জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিশ্বব্যাপী যত গবেষণা কিংবা চিকিৎসা শাস্ত্রের আধুনিক সকল প্রকার তথ্যের ভা-ারও কিন্তু ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত হয়ে থাকে। আইনের ভিত্তিও পৃথিবীব্যাপী মাতৃভাষার পরিবর্তে ইংরেজি ভাষা হয়ে থাকে। কারণ ব্যাপকভাবে এতে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকে, বিশ্বব্যাপী আলোচনা সমালোচনার দ্বারও থাকে উন্মুক্ত। তাই উচ্চ শিক্ষার জন্য যেমন ইংরেজি ভাষার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে, তেমনি ভালো কোনো চাকরির জন্যেও ইংরেজি ভাষার উপর গুরুত্ব দেয়া হয়ে থাকে। কোনো বিষয়ের উপর ভালো কোনো বই খুঁজতে গেলেই দেখা যাবে হয়তো সেটি বিদেশি কোনো লেখক চমৎকার গবেষণা করে লিখেছেন এবং হয়তো সেটি ইংরেজি ভাষাতেই লিখেছেন নয়তো ইংরেজিতে কেউ অনুবাদ করেছেন।
চাকরির ক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষাকে গুরুত্ব দেয়ার কারণ হলো: আজকাল বহু পেশাই দেশীয় সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই, আন্তর্জাতিক সীমানায় ছড়িয়েছে। একজন সেনা কর্মকর্তা, পুলিশ কর্মকর্তা, প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিচারিক কর্মকর্তা, কূটনৈতিক কর্মকর্তা, ব্যাংক কর্মকর্তা, আইন কর্মকর্তা, গোয়েন্দা কর্মকর্তা কিংবা গুরুত্বপূর্ণ অন্য কোনো পেশার কর্মকর্তাকে যে কোনো সময়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের বা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনে কাজ করতে হতে পারে। তাই গুরুত্বপূর্ণ চাকরির ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তা ইংরেজি ভাষাকে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।
![]() |
| ইংরেজি ক্লাস নিচ্ছেন গুলশাখালী হাই স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক আনিছুর রহমান |
অধিনায়ক উত্তরে বললেন, ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম, ফার্স্ট অব অল আই উড লাইক টু থ্যাংক টু আল্লাহ... এন্ড দেয়ার আর বিগ বিগ মেনি বিউটিফুল হসপিটাল ইন ইন্ডিয়া, আচ্ছা হ্যায় বহুত আচ্ছা হসপিটাল হ্যায়’ (প্রথমেই আমি আল্লাহকে ধন্যবাদ জানাই... এবং ভারতে অনেক বড় বড় সুন্দর হাসপাতাল আছে, বিশাল অনেক বিশাল বিশাল হাসপাতাল)।
সুতরাং, ভাষার উপর দখল নিতে চাইলে শব্দের অর্থ জানার উপরও গুরুত্ব দিতে হবে।
আবুল কালাম আজাদ : ব্যবস্থাপক, দত্তের হাট শাখা, নোয়াখালী, পূবালী ব্যাংক লি.।


No comments:
Post a Comment