Friday, August 17, 2018

দিশারী কাব্য-৩

রঙিন পৃথিবী
জাহিদুল ইসলাম
[উদ্ভিদ বিদ্যা, ৩য় বর্ষ, রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজ]

ঝিলমিল সাজে তারার সাথীরা
ডেকেছে আলোর মেলা,
এসো চাঁদ, এসো জোনাকীর ঝাঁক
করি সবাই আজ খেলা।

দিশারী কাব্য-২

দেখা হবে
মো. রেজাউল হক মানিক
[প্রধান শিক্ষক(ভারপ্রাপ্ত), সোনারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়]

দেখা হবে বন্ধু বৈশাখের কোনো  কালবৈশাখী ঝড়ের তোড়ে।
দেখা হবে জৈষ্ঠের কোনো বিকেলে রোদ মেঘের আড়াল হলে।
দেখা হবে বন্ধু আষাঢ়ের মেঘের গর্জনে ভয়ে কাতর নিথর দেহে।
দেখা হবে শ্রাবণের অঝোর ধারায় ঝর ঝর বারির স্রোতে।

দিশারী কাব্য-১


বৃষ্টির সৃষ্টি
মেহেদী হাসান পলাশ
[চেয়ারম্যান, সিএইচটি রিসার্চ ফাউন্ডেশন]

কাল ছিল মেঘ ভাঙা রোদ
আজ হলো বৃষ্টি
কাল ছিল বীজ রোপা দিন
আজ হলো সৃষ্টি।

আমাদের শৈশব



মো. আনিছুর রহমান (রতন):
আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির এ যুগে সবাই বিভিন্ন আধুনিক ডিভাইস ও অনলাইন নিয়ে ব্যস্ত। সব কিছুই এখন কৃত্রিমতায় ভরপুর। শিক্ষিত পরিবারের শিশুরা তো সারাদিনই ব্যস্ত থাকে লেখাপড়া নিয়ে। বন্ধের দিন যে সময়টুকু থাকে বিনোদনের জন্য তাও কাজে লাগান অভিভাবকরা। কখনও নাচের ক্লাস, কখনও গানের ক্লাস, কখনও চিত্রাঙ্কন ইত্যাদি। তাই আজকের শিশুরা প্রকৃতি দেখার সুযোগ পায় খুবই কম। অথচ দেড় যুগ আগেও আমাদের শৈশব কেটেছে ভিন্নভাবে। তখন ঘরে ঘরে টিভি, স্মার্ট ফোন, ল্যাপটপ, গেমস ডিভাইস ছিল না। আমাদের সকাল হতো পাখির ডাক শুনে, সারাদিন কাটত প্রকৃতির সাথে। বৃষ্টিতে ভিজে, রোদে শুকিয়ে এবং খেলাধুলা করে সন্ধ্যা নামতো আমাদের। 

তারুণ্যের পেশা ফ্রিল্যান্সিং


মো. নাসির উদ্দিন:
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার রাসেল আহমেদ এসএসসি পাস করেন ২০০৪ সালে। আর এইচএসসি ২০০৭ সালে। ২০০৬ সালে পরীক্ষা দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি পারেননি শুধু টাকার অভাবে। কম্পিউটার শেখার ইচ্ছা ছিল প্রবল, কিন্তু টাকা দেওয়ার সামর্থ্য ছিল না। তাই কম্পিউটার শিক্ষার বিনিময়ে দোকানের কাজকর্ম করে দেওয়ার চাকরি নেন রাসেল। দোকানের কাজকর্ম করার ফাঁকে ফাঁকে সেখানেই ওয়েবসাইট তৈরি করা শিখেন, কম্পিউটার প্রোগ্রামিং আয়ত্ত করেন।

শিক্ষার্থীদের সঞ্চয়


মো. হান্নান শাহ্:
বাংলাদেশের এক-দশমাংশ পার্বত্য চট্টগ্রাম। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রাণকেন্দ্র রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান। এ অঞ্চলাধীন রাঙ্গামাটি জেলার অন্তর্গত লংগদু উপজেলায় বিভিন্ন জনগোষ্ঠির মানুষ বসবাস করে। এখানকার পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী জনগোষ্ঠিসমূহের মানুষ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়। কেউ বন্য হাতির আক্রমণে হতাহত হয়। আবার কেউ অনেক কষ্টে করা ফসল বন্য হাতির আক্রমণ থেকে জীবন রক্ষার তাগিদে ছেড়ে দিয়ে আসতে বাধ্য হয়। এছাড়াও এখানে প্রাকৃতিক ও মনুষ্য সৃষ্ট নানা সমস্যা বিদ্যমান।

বেকারত্ব দূরীকরণে প্রাণি সম্পদ


ছামাদুল হক:
প্রাণি সম্পদের গুরুত্ব আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে অপরসীম। দুধ, মাংস ও ডিম উৎপাদন ছাড়াও আত্মকর্ম সংস্থানসৃষ্টিসহ আর্থসামাজিক উন্নয়নে প্রাণি সম্পদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশের মোট কর্মশক্তির শতকরা ২৫ ভাগ জনগোষ্ঠি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি পালন করে থাকে।

পরিশ্রমের বিকল্প নেই



তৌহিদুল রেজা:
জীবনে যেকোনো সফলতার জন্য চাই পর্যাপ্ত সুযোগ এবং তা কাজে লাগানোর যোগ্যতা। সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রেই মেধার পরিচয় দিতে হয়। তাই মেধা যাই থাকুক না কেন, আগে প্রয়োজন সুযোগ, কেবল সুযোগের অভাবেই অসংখ্য মেধাবীকে জীবনে বৈষয়িকভাবে ব্যর্থ হতে দেখি। লংগদুর মতো প্রান্তিক অঞ্চলে আমরা যারা বেড়ে উঠেছি তারা খুব ভালো করেই বুঝতে পারি সুযোগ এখানে কত অপ্রতুল; আর তা কাজে লাগানোই বা কত কঠিন।

Wednesday, August 15, 2018

সংগঠনের দ্বিতীয় স্থায়ী কমিটি

বাঁ থেকে সৈয়দ ইবনে রহমত, আবুল কালাম আজাদ, মাসুদ রানা ও ফারুক হোসেন 
নোটিশ বোর্ড: ২০১৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় গুলশাখালী চৌমুহনী বাজারের উত্তর পার্শ্বে অবস্থিত প্রত্যাশা কোচিং হাউজে ‘ফরমার স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অব গুলশাখালী’র এক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

Thursday, August 9, 2018

ঘুরে এলাম বাংলার দার্জিলিং



মো. ফারুক হোসেন::
ঔপন্যাসিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যয় বলেছিলেন, আমাকে যদি পাহাড় ও নদীর মধ্য একটিকে বেছে নিতে বলে তবে আামি পাহাড়কেই বেছে নিব। বাংলাদেশের সর্বত্র নদী ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকলেও পার্বত্য চট্টগ্রাম ব্যতীত পাহাড় খুব বেশি দেখা যায় না। তাই স¦ভাবতই এ দেশের মানুষের পাহাড়ের প্রতি আকর্ষণটা বেশি। আমার জন্ম পাহাড়ে, তবুও মন ভরে পাহাড় দেখার স্বাদ কখনোই কমেনি। যখনই সুযোগ পেয়েছি ছুটে গিয়েছি পাহাড়ের সৌন্দর্য্য দেখতে। পাহাড়ের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য্য ও আঁকা-বাকা পথ আমার মনে এক ধরনের শিহরণ জাগায়। বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় একটি পর্যটন কেন্দ্র হলো সাজেক ভ্যালি। যেখানে মেঘ আর রৌদ্রের লুকোচুরি খেলা খুব কাছ থেকে দেখা যায়।

রক্তদানের প্রথম স্মৃতি


খায়রুন নাহার সুইটি::
আমি তখন দ্বিতীয় বর্ষে পড়ি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। ক্যাম্পাসে দু’টি রক্তদান সংগঠনের মধ্যে ‘স্বজন’ একটি। স্বেচ্ছায় রক্তদানের বিষয়টি আমার আগে থেকেই খুব ভালো লাগতো। আমার রক্তে নতুন করে একটি মানুষ বেঁচে উঠবে এটা ভাবলেই অন্যরকম তৃপ্তি পেতাম। তাই আগ্রহবশত একদিন স্বজনের সদস্য হয়ে যাই। অতঃপর, কিছুদিন পরই রক্তদানের জন্য ‘স্বজন’ থেকে ডাক আসে।

নৈতিকতাহীন শিক্ষার কোনো মূল্য নেই


মো. শাহজাহান শাহ::
জন্মগত বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী আমরা অত্যন্ত দুর্বল একটি প্রাণি। কিন্তু বুদ্ধিমত্তায় অর্জন করেছি শ্রেষ্ঠত্ব। আমরা আমাদের চাহিদাগুলোকে একা পূরণ করতে পারি না বলে সমাজবদ্ধভাবে বসবাস করি। একে অপরকে সহযোগিতা করে থাকি। আর এ সহযোগিতামূলক মনোভাবই সমাজে নিয়ে আসে অনাবিল শান্তি। জ্ঞানার্জনের মধ্য দিয়ে ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক শান্তি বজায় রেখে পারিবারিক ভারসাম্য রক্ষা করে জীবন যাত্রাকে অধিকতর সুন্দর করে তোলাই শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য। তবে এ শিক্ষা হতে হবে নৈতিকতাসমৃদ্ধ। বর্তমানে অভিভাবকগণ সন্তানদের পড়ালেখায় সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন বিজ্ঞান, গণিত এবং ইংরেজি বিষয় নিয়ে। কীভাবে এসব জটিল বিষয় সহজে আয়ত্ত করে পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করা যায় সেই কৌশল নিয়ে সবাই ব্যস্ত। শুধু পরীক্ষা পরীক্ষা আর পরীক্ষা! মনে হচ্ছে দেশে আর শিক্ষার্থী নেই। সকলেই পরীক্ষার্থী হয়ে গেছে। 

ছাত্র শিক্ষক অভিভাবক ও পরিবেশ


মো. মনজুরুল হক::
একটি দেশকে বহির্শত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করা হয়ে থাকে। তেমনি জাতির মেরুদ-কে মজবুত করতে হলে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা থেকে শুরু করে উচ্চ শিক্ষা পর্যন্ত সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থাকে মজবুত করা আবশ্যক। পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা ব্যবস্থাও জরুরি। শিক্ষা ব্যবস্থা যত উন্নত হবে, দেশের ফাউন্ডেশনও তত মজবুত হবে। জাতি হিসেবেও উন্নতির শিখরে ওঠা সম্ভব হবে।

মানুষ ও মনুষ্যের চর্চা


কামাল হোসেন::
মানুষ পৃথিবীর একটি জটিল ও প্রভাবশালী জীব। মানুষ আধ্যাত্মিক প্রাণি, যার কল্পনার জগতের সীমাপরিসীমার মানচিত্র নেই। মানুষের মন দ্বারা শরীরবৃত্তীয় কর্মকা- নিয়ন্ত্রিত; মন, বুদ্ধি, বিবেকে বোধের সমষ্টিগত রূপ; যা অনুভূতি, ইচ্ছা, কল্পনার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। যার আলাদা কোনো সত্ত্বা নেই, কিন্তু ব্যক্তির আচরণের মাধ্যমে বাহ্যিকতা ফুটে ওঠে। মানুষের ভাব আছে তাই সে ভাবুক, আর ভাব হলো চিরন্তন, অভিনশ্বর, অনন্ত। ভাবের মাধ্যমে মানুষ আধ্যাত্মিক হয় ও পরমাত্মার উপলব্ধি করে। তাকে আশরাফুল মাকলুকাত বলে। মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম হোমো সেপিয়েন্স এর দ্বিতীয় অংশ সেপিয়েন্সের অর্থ বিজ্ঞ। আবার মানুষের আরেক নামের সাথে আমরা সকলে পরিচিত, আর তাহলো ‘ইনসান’; যার অর্থ ভুলে যাওয়া, ভুল করা। অর্থাৎ ভুলে যাওয়া আর ভুল করাও মানুষের বিশেষ মানবীয় গুণ। 

দারিদ্র্য বিমোচনে সরকারি প্রচেষ্টা



রফিকুল ইসলাম::
পাকিস্তানের শোষণ থেকে মুক্ত হয়ে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত অসম্প্রদায়িক সুখী-সমৃদ্ধ দেশ গড়তেই ১৯৭১ সালে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা লাভ করে বাংলাদেশের মানুষ। যুদ্ধ জয়ই সব নয়, স্বাধীনতার পূর্ণতা তখনই সম্ভব যখন এ দেশের মানুষ ক্ষুধা-দারিদ্র্যকে জয় করতে পারবে। সে পথে আমরা ইতোমধ্যে অনেকটা পথ অতিক্রমও করেছি। আমরা উপনীত হতে যাচ্ছি মধ্যম আয়ের দেশে। কিন্তু সত্যিই কি আমরা দারিদ্র্যকে জয় করতে পেরেছি?

আইনের খুঁটিনাটি


কামাল হোসেন সুজন::
মানুষ সমাজবদ্ধ জীব। আর সমাজ বা রাষ্ট্র চলে কিছু আইনী কাঠামো মেনে। নাগরিক হিসেবে আমাদের উচিৎ সমাজ বা রাষ্ট্রের সে আইন সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখা। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে আমরা রাষ্ট্রের প্রচলিত আইনসমূহ সম্পর্কে খুব কমই জানি। তাই আইনের বিধি-বিধান না জেনে কিংবা কম জেনে অথবা আন্দাজের ওপর নির্ভর করে কাজ করতে গিয়ে কখনও কখনও অহেতুক আইনী ঝামেলায় জড়িয়ে ক্ষতির শিকার হই। দুঃখের বিষয় হচ্ছে, রাষ্ট্রযন্ত্র জনগণকে শতভাগ শিক্ষাদানের প্রতিশ্রুতি দেয় কিন্তু প্রাথমিক হতে উচ্চতর শ্রেণি পর্যন্ত কোথাও আইনের কোনো অধ্যায় নেই। তাই একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদের নিজ দায়িত্বেই প্রচলিত আইনের কিছু বই কিনে পড়া উচিৎ।

পাহাড়ের কান্না


মো. সিরাজুল ইসলাম::
ময়মনসিংহ জেলাধীন ত্রিশাল ধলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করা হতদরিদ্র মো. আবদুল বারেক ও সহধর্মিণী রাবেয়া খাতুন, সংসার জীবনে তারা পাঁচ সন্তানের জনক-জননী। সন্তানদের ভবিষ্যৎ সুখের আশায়, সুখের স্বপ্ন দেখে সপরিবারে ১৯৭৯ সালে পাড়ি জমান চট্টগ্রামের দুর্গম পাহাড়ী জনপদ রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার গুলশাখালীর রসুলপুর গ্রামে। যেখানে চিকিৎসা ও শিক্ষা ব্যবস্থার কোনো সুযোগ-সুবিধা ছিল না। ছিল না কোনো কর্মসংস্থান। নিত্য প্রয়োজনীয় খাবার সামগ্রীও পাওয়া যেত না। নানা প্রতিকূলতার মাঝে সংগ্রাম করে বেঁচে থাকার জন্য জীবিকানির্বাহ করতে প্রতিদিন ছুটে যেতেন আবদুল বারেক বিভিন্ন স্থানে। উপার্জনের সামান্য টাকায় নুন, আটা, তেল কিনে কোনভাবে সংসার চলত। কিছুদিন পরই ডায়রিয়া হয়ে চিকিৎসার অভাবে মারা যায় আবদুল বারেকের বড় সন্তান মো. নুরুল ইসলাম। সেই থেকেই শোক যেন বাসা বাঁধে আবদুল বারেক ও রাবেয়া খাতুনের সংসারে।

শান্তির পথে


শফিকুল ইসলাম::
১৯৮০-৮৭ সময়টুকু আমার কাছে অন্ধকারাচ্ছন্ন, খুব কম স্মৃতিই মনে পড়ে। শুধু গমের চালের ভাত আর দশ পয়সায় ১ কেজি মলা মাছ তখন আমাদের প্রধান খাদ্য ছিল। ১৯৮৭ সাল, তখন ৪র্থ শ্রেণিতে পড়ি। যে গ্রামে আমার বসবাস সেটি ছিল অপেক্ষাকৃত নিরাপদ। উপজাতিরা পাহাড় থেকে তাদের উৎপাদিত নানান ফলফলাদি বিক্রির জন্য গ্রামের উপর দিয়ে নিয়ে আসত। শিমুল আলু (কাঠ আলু), খিরা, মারফা ইত্যাদি। এর মধ্যে মারফা ফলটি বাঙালিদের নিকট ছিল নতুন। চলাফেরা এবং লেনদেনের মাধ্যমে বাঙালি এবং উপজাতিদের মধ্যে এক সময় সখ্য গড়ে উঠে। কিন্তু শান্তি বাহিনীর ভয় আকস্মিকভাবেই আমাদের এলাকার সেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশের নিরবিচ্ছিন্নতাকে ধ্বংস করে দিল। শুরু হলো চারদিকে গুঞ্জন।

ইংরেজি শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা


আবুল কালাম আজাদ::
পৃথিবীতে আড়াই হাজারেরও অধিক ভাষা রয়েছে। মনের ভাব পরিপূর্ণভাবে প্রকাশ করার জন্য কিংবা তৃপ্তি সহকারে প্রকাশের জন্য মাতৃভাষার বিকল্প কিছু হতে পারে না। কিন্তু সমস্যা হয় দুই ব্যক্তি ভিন্ন ভিন্ন মাতৃভাষায় কথা বললে। সে ক্ষেত্রে একটি প্রধান ভাষার সাহায্য নিতে হয়। রাষ্ট্রের সীমানায় এরকম একটা প্রধান ভাষা কিংবা রাষ্ট্রীয়ভাষা ভাব আদান-প্রদানে সমাধান দিতে পারে। কিন্তু রাষ্ট্রের গণ্ডি পেরুলেই এই রাষ্ট্রীয়ভাষাও সমস্যার সমাধান দিতে পারে না। তাই সে ক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষার সাহায্য নিতে হয়। আন্তর্জাতিক জীবন থেকে পারিবারিক জীবন পর্যন্ত সর্বত্রই আজকাল ইংরেজি ভাষার ব্যবহার হচ্ছে। ছাত্রজীবনে যারা ইংরেজি ভালো বলতে কিংবা লিখতে পারে, ভালো চাকরিতে সুযোগ তারাই পাচ্ছে। যে ব্যবসায়ী ভালো ইংরেজি জানেন, তিনি ব্যবসায় উন্নতি করছেন। ন্যায়বিচার পেতে হলেও যেমন ইংরেজি দরকার, তেমনি উচ্চশিক্ষা অর্জন করতে হলেও ইংরেজি প্রয়োজন।

বই পড়া


মো. আবুল হোসেন::
বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর নিকট মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পক্ষ হতে প্রেরণকৃত সর্বপ্রথম বাণীর প্রথম শব্দটি ছিল ‘ইক্রা’ অর্থাৎ পড়। ইসলামের মহান ব্যক্তিত্ব হযরত মুহাম্মদ (সা.)কে আল্লাহপাক প্রথম বাণী প্রেরণের সময় পড়ার নির্দেশ প্রদান করেছিলেন। এটা থেকেই অনুধাবন করা যায় যে পড়ার গুরুত্ব অনস্বীকার্য।
শিশুরা যখন কথা বলতে শিখে, তখন থেকেই তার পিতা-মাতা তাকে মুখে মুখে বর্ণমালা পড়তে শেখায়। এখানেই শুরু হয় মানবশিশুর শিক্ষাজীবন। গুণীজনেরা বলেন,

Saturday, July 28, 2018

পড়ার আছে অনেক বিষয়



আল আমিন ইমরান::
একটি ছোট শিশুকে যদি প্রশ্ন করা হয়, বড় হয়ে তুমি কী হবে? উত্তরে শিশুটি ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, উকিল, ব্যারিস্টার কিংবা ভিন্ন কোনো বড় এবং পরিচিত পেশার কথাই বলবে। যেটা অভিভাবকরা তাকে শিখিয়েছে, দেখিয়েছে স্বপ্ন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কি হয়? আসলে সন্তানদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য যে শিক্ষা প্রয়োজন তার গতিপথ আমরা অনুধাবন করতে পারি না। ফলে মুখ থুবরে পড়ে ছোট্ট শিশুর স্বপ্ন। তাছাড়া, সাধারণ শিক্ষার বাইরেও যে বিশাল জগৎ আছে সে সম্পর্কে আমাদের সমাজ জানেই না। শিক্ষা বলতে আমরা বুঝি মেট্রিক, আইএ, বিএ পাস!

Wednesday, July 18, 2018

আমাদের স্বপ্নগুলো


শহিদুল ইসলাম কামাল::
গুলশাখালী শিক্ষা-দীক্ষায় পিছিয়ে থাকা একটি জনপদ। নব্বইয়ের দশকে সারা গুলশাখালীতে এসএসসি পাশ করা কিংবা এসএসসিতে পড়–য়া কোনো ছাত্র ছিল না। আমি তখন সবেমাত্র নবম শ্রেণিতে পড়ি। গুলশাখালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়টি তখন শিক্ষার আলো ছড়ানোর একমাত্র প্রতিষ্ঠান। হাতেগোনা আমরা কয়েক জন ছাত্র-ছাত্রী। ১৯৮৮ সালের দিকে গুলশাখালীতে বিডিআরের (বর্তমানে বিজিবি) ৭ রাইফেল ব্যাটালিয়নের কার্যক্রম শুরু হয়। তখন থেকেই গুলশাখালীতে মানুষজন একটু একটু করে শিক্ষার মূল্য উপলব্ধি করতে থাকে। বাংলাদেশের শেষ সীমানার লোকালয় গুলশাখালীতে শিক্ষার প্রসার হতে শুরু করে। এর জন্য শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করতে হয়

Monday, July 16, 2018

ক্যাডার সার্ভিসেই চাকরি করব


মো. আল আমীন::
জীবনের অনেক বাঁক থাকে। আর এসব বাঁকে পড়লে আমাদের মনে হয় পারব না, আমার দ্বারা হবে না, কেন আমার সাথে এমনটা হয়, হাজারো না-বোধক ভাবনা আসে। কিন্তু সকল না-কে জয় করে হ্যাঁতে রূপ দিতে পারাটাই হচ্ছে সফলতা। শত প্রতিকূল পরিস্থিতিতে থেকেও দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি থাকলে সফলতা আসবেই। দারিদ্র্য, প্রতিকূল পরিবেশ সফলতার জন্য কোনো বাধা নয়।

পৃথিবীর প্রত্যেকটা মানুষেরই স্বপ্ন থাকে।

Thursday, July 12, 2018

বাল্যবিবাহ


আরমান খান::
বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থায় বাল্যবিবাহ একটি অন্যতম সমস্যা। রাঙামাটির লংগদু উপজেলায়ও বাল্যবিবাহের খবর মাঝে-মধ্যেই শোনা যায়। পাহাড়ি জনগোষ্ঠির তুলনায় বাঙালিদের মধ্যে এ হার আশঙ্কাজনক। প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান পরিচালনার কারণে অনেক ক্ষেত্রে গোপনেই এসকল বিয়ের আয়োজন করা হয়।

জীবনের জয়গান: ২০১০ সালের মার্চ মাস। লংগদু বালিকা বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী শেফালী (ছদ্ম নাম)। পরিবারের আর্থিক অভাব-অনটনের পাশাপাশি প্রতিবেশী কলেজ পড়ুয়া যুবকের সাথে প্রেমের সর্ম্পক থাকার কারণে

Wednesday, July 11, 2018

হ্রদের বুকে বিশাল বিল


জিয়াউল হক::

দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম কাপ্তাই হ্রদের বুকে বিশাল এলাকা জুড়ে রয়েছে এক বিল। বিশাল এই বিলের যেদিকেই চোখ যায় শুধু পানি আর পানি। দশ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও দশ কিলোমিটার প্রশস্ত এই বিলের মাঝখানে রয়েছে ছোট্ট একটি দ্বীপ। আর দ্বীপেই গড়ে উঠেছে বসতি ও বাজার। রাঙ্গামাটি জেলার মানুষের কাছে কাট্টলি বাজার নামেই পরিচিত এটি। আর বিশাল বিলটিও পরিচিত কাট্টলি বিল নামে।

বিশাল জলরাশির মধ্যভাগে জেগে আছে ছোট ছোট সবুজ দ্বীপ।